মদিনার ফজিলত: দাজ্জালমুক্ত শহর ও মুমিনের শেষ আশ্রয়
মক্কার পর মুসলিম উম্মাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত স্থান হলো পবিত্র মদিনা মুনাওয়ারা। ইসলামের এই শক্তিকেন্দ্র থেকেই বিশ্বব্যাপী দ্বীনের আলো ছড়িয়ে পড়ে এবং মহানবী (সা.) মক্কা থেকে হিজরত করে তাঁর জীবনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ শেষ ১০ বছর এখানেই অতিবাহিত করেছেন। পরম শান্তিতে শায়িত বিশ্বনবীর (সা.) এই পবিত্র রওজা মুমিনদের হৃদয়ে অপরিসীম আবেগ ও শ্রদ্ধার সৃষ্টি করে।
ইতিহাসবিদদের মতে মদিনার প্রায় ৯৪টি নাম রয়েছে, যার মধ্যে ‘মদিনা’ এবং নবীজি (সা.)-এর দেওয়া ‘তাবাহ’ বা ‘তাইবাহ’ অর্থাৎ ‘উত্তম’ সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। জাহেলি যুগে এর নাম ছিল ‘ইয়াসরিব’। আল্লাহ তাআলা এই নগরীকে অসাধারণ মর্যাদা দিয়েছেন। হাদিসে বলা হয়েছে, দাজ্জাল ও মহামারি মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না কারণ ফেরেশতারা এর প্রবেশদ্বার রক্ষা করছেন। এছাড়া মসজিদে নববিতে এক ওয়াক্ত নামাজের সওয়াব অন্য যেকোনো মসজিদ থেকে এক হাজার গুণ বেশি এবং মিম্বার ও রওজার মাঝখানের স্থানটি জান্নাতের বাগিচার অংশ।
কিয়ামতের আগে যখন পৃথিবীতে ঈমান টিকে রাখা দুষ্কর হবে, তখন ঈমান মদিনার দিকে ফিরে আসবে। মদিনাকে শরিয়ত ‘হারাম’ বা পবিত্র ঘোষণা করেছে। হাদিসে উল্লেখ আছে, যে ব্যক্তি মদিনায় মৃত্যুবরণ করতে সক্ষম হবে, তার জন্য বিশ্বনবী (সা.) শাফায়াত করবেন। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) মদিনাকে মক্কার চেয়েও বেশি প্রিয় করার জন্য এবং এখানকার রিজিক ও ফলমূলে দ্বিগুণ বরকত দানের জন্য দোয়া করেছেন।

