ইশারাতেও নামাজ পড়তে না পারলে ফিদিয়া লাগবে?
ইসলামি শরিয়তে মানুষের সাধ্যের বাইরে কোনো বিধান নেই এবং নামাজ মুমিনের জীবনের অপরিহার্য অংশ। তবে গুরুতর অসুস্থতার কারণে যদি কোনো ব্যক্তি শুয়ে মাথা দিয়ে ইশারার মাধ্যমেও নামাজ আদায় করতে সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে পড়েন, তবে তিনি আর নামাজের দায়ী থাকেন না। এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তার পক্ষ থেকে ছুটে যাওয়া নামাজের জন্য কোনো কাজা বা ফিদিয়া দিতে হবে না, কারণ আল্লাহ তাআলা বান্দাকে যে সামর্থ্য দেননি তার দায়িত্ব তিনি ক্ষমা করে দেন।
ফিকহি বিধান অনুযায়ী, দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে অসমর্থ হলে বসে, আর বসতে না পারলে শুয়ে মাথা দিয়ে ইশারা করে নামাজ পড়তে হয়। তবে কেবল চোখের ইশারা বা মনে মনে নিয়ত করা যথেষ্ট নয়। অত্যন্ত অসুস্থ ব্যক্তির জন্য বলা হয়েছে, যদি তিনি মাথা নাড়াতেও অপারগ হন, তবে তার ওপর থেকে নামাজের হুকুম লুপ্ত হয়ে যায়। ‘মুআত্তা মুহাম্মদ’ (২৭৮), ‘দারাকুতনি’ (১৮৮৩), ‘কিতাবুল আছল’ (১/১৯০), ‘আল-বাহরুর রায়েক’ (২/১১৬) এবং ‘ইলাউস সুনান’ (৭/১৯৮)-এ এ নিয়মটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত ও সমর্থিত হয়েছে।
বার্ধক্যজনিত কারণে কেউ যদি নামাজের ধারাবাহিকতা ভুলে যান, তবে পাশের ব্যক্তি তাকে নির্দেশ দিয়ে সাহায্য করতে পারেন। আসমা (রা.)-এর বার্ধক্যে এক মহিলা তাকে রুকু ও সেজদার সময় মনে করিয়ে দিতেন, যা ‘মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা’ (৩৩৪৯৭) গ্রন্থে উল্লেখ আছে। সুতরাং, ইশারায় অক্ষম রোগীর নামাজ মাফ হয়ে গেলে তার জন্য ফিদিয়া দেওয়ার প্রয়োজন নেই। মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশদের উচিত তার মাগফেরাতের জন্য দোয়া, ইস্তেগফার এবং সাধ্যমতো দান-সদকা করা।

