নফসের বিরুদ্ধ জিহাদে হাসান বসরির নির্দেশিত দুই অস্ত্র
নিজের অন্তরের কুপ্রবৃত্তি বা নফসের সাথে লড়াই করা মুমিনের জীবনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এই জিহাদুন নফসে জয়ী হওয়ার জন্য ইসলাম শরিয়তে কিছু নির্দিষ্ট আমলের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এর মধ্যে তাবেয়ি হজরত হাসান বসরি (রহ.) দুটি আমলকে সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, রাত জেগে ইবাদত করা এবং নিজের সর্বশেষ সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করার চেয়ে উত্তম কোনো আমল তার জানা নেই।
পবিত্র কোরআনে সুরা সাজদার ১৬ নম্বর আয়াতে বিশ্বাসীদের বিশেষ গুণের কথা তুলে ধরা হয়েছে, যারা ঘুমের তন্দ্রা ত্যাগ করে আল্লাহর দরবারে ভয় ও আশায় ডাকেন এবং তিনি যা রিজিক দিয়েছেন তা দান করেন। সুরা বনি ইসরাইলের ৭৯ আয়াতেও রাতের একটি অংশে তাহাজ্জুদ প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে বান্দা মর্যাদাপূর্ণ স্থানে উন্নীত হতে পারে। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ। ইমাম নববি (রহ.) ব্যাখ্যা করেছেন, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বান্দার দোয়া কবুল করেন।
অন্যদিকে, সম্পদের মোহ থেকে বের হয়ে আল্লাহর পথে ব্যয় করাও নফসের বিরুদ্ধে জিহাদের অপরিহার্য অংশ। সুরা ইমরানের ৯২ আয়াতে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণ লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার প্রিয় সম্পদ দান করে। সুরা মুনাফিকুনেও সতর্ক করা হয়েছে যেন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ না করে। রাসুল (সা.) বলেছেন, উপরের হাত বা দাতার হাত নিচের হাত বা ভিক্ষুকের হাত অপেক্ষা উত্তম। ইমাম গাজ্জালি (রহ.) উল্লেখ করেছেন, রাতের ইবাদত লোক দেখানোর প্রবণতা থেকে মুক্ত, তাই এটি আল্লাহর দরবারে অধিক মর্যাদাপূর্ণ।

