বিজ্ঞাপন

কথা বলার সময় মুমিনদের মেনে চলার গুরুত্বপূর্ণ আদব

প্রাইম বার্তা অনলাইন
২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ৬:০৩ এএম
কথা বলার সময় মুমিনদের মেনে চলার গুরুত্বপূর্ণ আদব

মানুষের আসল পরিচয় ও চরিত্র তার কথাবার্তার মাধ্যমেই প্রকাশ পায়। একজন মুমিনের জন্য তার বক্তব্য সংযত, মার্জিত এবং সত্যনির্ভর হওয়া অত্যন্ত অপরিহার্য। ইসলামে মুখে আসা কথা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বলে দেওয়াকে মুমিনের স্বভাব হিসেবে দেখা হয় না। পবিত্র কোরআনের সুরা কাফের ১৮ নম্বর আয়াতে উল্লেখ আছে, মানুষের প্রতিটি শব্দ রেকর্ড করার জন্য একজন সদা তৎপর ফেরেশতা নিয়োজিত আছেন। এ কারণেই শরিয়তে কথা বলার সময় সর্বদা সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সত্য কথা বলা এবং স্পষ্টভাবে কথা প্রকাশ করা বিশ্বাসীদের অন্যতম গুণ। সুরা আহজাবের ৭০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ মুমিনদের সঠিক কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসাথে কথা বলার সময় কণ্ঠস্বর নিচু রাখতে বলা হয়েছে, কারণ উচ্চস্বরে কথা বলা গাধার আওয়াজের চেয়েও নিকৃষ্ট বলে উল্লেখ আছে সুরা লোকমানে। হজরত মুসা (আ.) তার জবানি জড়তার কারণে আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন যাতে মানুষ তাকে মিথ্যাবাদী না ভাবে। হাদিসে জামে তিরমিজিতেও বলা হয়েছে, মুমিন ব্যক্তি কখনো অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন না এবং অহেতুক কথা পরিহার করাই ইসলামি গুণের অংশ।

বিজ্ঞাপন

অপরকে তুচ্ছ জ্ঞান করা, খারাপ নামে ডাকা বা অজ্ঞ ব্যক্তির সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত থাকা জরুরি। সুরা হুজরাতে বড়দের সামনে কণ্ঠস্বর উঁচু না করার এবং পরস্পরকে মন্দ নামে ডাকতে নিষেধ করা হয়েছে। এমনকি যে বিষয়ে জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে মন্তব্য করা থেকেও বাঁচতে বলা হয়েছে, কারণ কেয়ামতের দিন মানুষের জিহ্বা, হাত ও পা তার কৃতকর্মের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। সুরা সফে উল্লেখ আছে, কথা ও কাজে বৈপরীত্য থাকা মুনাফিকের লক্ষণ, তাই প্রতিটি মুমিনকে নিজের কথার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে।

বিজ্ঞাপন
শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...