ইলিয়াছুর রহমান জিহাদীর বিরুদ্ধে
অগ্রিম টাকা নিয়েও মাহফিলে না আসার অভিযোগ
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় অগ্রিম টাকা গ্রহণ করেও নির্ধারিত মাহফিলে উপস্থিত না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসলামি বক্তা ইলিয়াছুর রহমান জিহাদীর বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বাদ আছর পাংশা পৌর এলাকার কুলটিয়া ঈদগাহ মাঠে ঈদগাহ উন্নয়নকল্পে ও যুব সমাজের উদ্যোগে ২০তম বার্ষিক তাফসীরুল কুরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়। উক্ত মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন মুফতি ইলিয়াছুর রহমান জিহাদী (ঢাকা) আলোচনা করার কথা ছিল।
তবে মাহফিলের আগের দিন রবিবার (২১ ডিসেম্বর) তিনি আয়োজক কমিটিকে জানান যে, ব্যক্তিগত কারণে তিনি মাহফিলে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। অথচ এর আগেই নিয়ম অনুযায়ী তার সঙ্গে যোগাযোগ ও চুক্তি সম্পন্ন করে অগ্রিম টাকা প্রদান করা হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে তার অনুপস্থিতির ঘোষণায় আয়োজক কমিটিসহ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মাহফিল এন্তেজামিয়া কমিটি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি গ্রহণ, পোস্টার-ব্যানার, মাইকিংসহ ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। এমন অবস্থায় হঠাৎ প্রধান বক্তা পরিবর্তন করা আয়োজকদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
কুলটিয়া ঈদগাহ কমিটির সভাপতি মো. মজনু মাহমুদ বলেন,
“আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। পুরো উপজেলায় প্রচার চালানো হয়েছে। একজন ইসলামি বক্তা অগ্রিম টাকা গ্রহণ করার পরও এভাবে শেষ মুহূর্তে না আসার ঘোষণা দেওয়া লজ্জাজনক ও দুঃখজনক। এতে আমরা সামাজিকভাবে বিব্রত হয়েছি।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ধর্মীয় মাহফিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে একজন বক্তার এমন আচরণ শুধু আয়োজকদের নয়, সাধারণ মুসল্লিদের ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত করেছে।
পরবর্তীতে মাহফিল সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আয়োজক কমিটি বিকল্প হিসেবে নতুন বক্তার ব্যবস্থা করে। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে আলোচনা করেন বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক মাওলানা জিল্লুর রহমান জুনায়েদী। আয়োজক কমিটি মাহফিলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হওয়ার জন্য ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে রাজবাড়ী-২ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. হারুন অর-রশীদ (হারুন)। মাহফিলে সভাপতিত্ব করবেন পাংশা পৌর বিএনপির সভাপতি ও পাংশা শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি মো. বাহারাম হোসেন সরদার।
এ বিষয়ে ইলিয়াছুর রহমান জিহাদীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার সহকারী পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, আয়োজক কমিটি প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনুষ্ঠান বাতিল করেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। এছাড়া যাঁর মাধ্যমে হুজুরকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল, তাকেও একই কথা জানানো হয়েছে যে প্রশাসনিক সমস্যার কারণে হুজুর মাহফিলে অংশ নিতে পারবেন না।

