নিউইয়র্কে প্রথম মুসলিম চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হবে ১২টি সিনেমা
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে মুসলিম চলচ্চিত্র উৎসব। আগামী ১১ অক্টোবর নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অবস্থিত এসভিএ থিয়েটারে বসবে নিউইয়র্ক মুসলিম ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (NYMFF)। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মুসলিম নির্মাতাদের গল্প, অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীল কর্মকে দর্শকদের সামনে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এক দিনের এই উৎসবে পর্দায় আসবে ১২টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র; থাকছে তথ্যচিত্র, নাট্যধর্মী সিনেমা, কমেডি, অ্যানিমেশন আর পরীক্ষামূলক ঘরানার নানা কাজ।
উৎসবটি যৌথভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন নিউইয়র্কভিত্তিক পরিচালক ও প্রযোজক নওয়াল মুবিন এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা ও পোস্ট-প্রোডাকশন পেশাজীবী জিউসেপ্পে দে মাত্তেইস। উৎসবের ওয়েবসাইটে নওয়াল মুবিন জানিয়েছেন, এই আয়োজনের মূলে রয়েছে আনন্দ, সংলাপ আর মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন। তাঁর ভাষায়, মুসলিমরা বৈচিত্র্যময় এক বৈশ্বিক জনগোষ্ঠী — তাঁদের সংস্কৃতি, পরিচয় ও জীবনের অভিজ্ঞতাও এক নয়। তাই মুসলিমদের গল্পও কোনো নির্দিষ্ট কাঠামোয় আটকে থাকে না।
উৎসবে দেখানো হবে জাস্টিন মাশুফের ‘১৭.৭৪’ — কারাগারে বন্দি এক সাবেক গ্যাং সদস্যের গাজার মানুষের জন্য করা ছোট্ট মানবিক উদ্যোগ কীভাবে সংহতি ও আশার বার্তা ছড়িয়ে দেয়, সেই গল্পের তথ্যচিত্র। ‘বাবা ইজ মেল্টিং’ (করিম এমারার)-এ বাবার গোপন দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ছেলের মুখোমুখি হওয়ার কাহিনি, আর ‘বুকরা’-য় শেষবারের মতো বন্ধুর সঙ্গে ফুটবল খেলতে চাওয়া এক সিরীয় শরণার্থী কিশোরীর আকাঙ্ক্ষা। এছাড়া মৃত্যুপথযাত্রী বাবার কাছ থেকে ইসলামি দাফন-কাফনের নিয়ম শেখার দায়িত্ব পাওয়া এক ছেলের গল্পে তৈরি ‘গুস্ল’ এবং আফগান নারীদের পরিচয় ও ঐতিহ্যনির্ভর কমেডি ‘হারাম সালামি’-ও রয়েছে তালিকায়।
এর বাইরে পর্দায় আসবে ‘হেনা’, ‘মালিকা’, ‘মাই ফ্রেন্ড ইন দ্য জিঙ্গেল ট্রাক’, ‘সবর ও শুকর’, ‘দ্য বয় উইথ দ্য ডাইনোসর হেড’, ‘আনকোয়ালিফায়েড’ এবং ‘ইয়া হানুনি’। এসব ছবির কেন্দ্রে মুসলিম জীবনের নানা রঙ — পারিবারিক বন্ধন, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, ধর্মীয় অনুশাসন, অভিবাসন, সংস্কৃতি, পরিচয়, হাস্যরস কিংবা প্রতিকূলতা জয়ের লড়াই।
উৎসব শুরু হবে নির্মাতা ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের জন্য বিশেষ অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে। এরপর ছয়টি করে সিনেমার দুই পর্বে প্রদর্শিত হবে ১২টি চলচ্চিত্র; সবশেষে থাকবে পুরস্কার বিতরণ ও জুরি সদস্যদের ঘোষণা। ছয় সদস্যের জুরি প্যানেলে জায়গা পাচ্ছেন এমি অ্যাওয়ার্ডজয়ী অভিনেতা ও নির্মাতা আসিফ মান্ডভি এবং পাকিস্তানের ২০২৫ সালের অস্কার মনোনয়ন পাওয়া ‘দ্য গ্লাসওয়ার্কার’ ছবির প্রযোজক আবুবকর খানসহ অন্যরা।
আয়োজকদের আশা, এই উৎসবের মাধ্যমে মুসলিম নির্মাতাদের বৈচিত্র্যময় গল্প আরও বড় দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাবে এবং চলচ্চিত্রের ভাষায় গড়ে উঠবে নতুন সংলাপ ও সংযোগের পথ।

