সংসদে কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে ‘ফোনালাপের বোঝাপড়া’ নিয়ে তোলপাড়
জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে সংবিধান সংশোধন ও সংসদীয় কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে ব্যাপক বাক্য বিনিময় হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি দাবি করেন, বিরোধীদলীয় উপ-নেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ তাহেরের সাথে ফোনে আলাপের ভিত্তিতে তারা আশা করেছিলেন যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিরোধীরা সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেবে। এই বোঝাপড়ার কারণেই রোববার কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
চিফ হুইপ তার বক্তব্যে বলেন, বিগত ৫৪-৫৫ বছর ধরে বিরোধীদলকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি ছাড়া অন্য কোনো কমিটির সভাপতি পদ দেওয়ার রীতি ছিল না। তবে সরকার এবার আনুপাতিক হারে ১০টি কমিটির সভাপতি পদ দিতে রাজি আছে। তিনি জানান, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে যেহেতু জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে, সেহেতু বিরোধীদলকে ওই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে। তিনি উন্মুক্ত আলোচনার ওপর জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক বিষয়ে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব।
চিফ হুইপের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় উপ-নেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ তাহের। তিনি স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরে বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগদান এবং সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন—এই দুই বিষয়ের মধ্যে কোনো সম্পর্ক বা সমঝোতা হয়নি। বিরোধীদল এ ধরনের কোনো আপস করেনি বলেও জানান তিনি। ফলে কমিটি গঠন ও সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ে।

