ইরানের মিসাইল শক্তি: ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’ ও হাইপারসনিক আতঙ্ক

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০২ মার্চ ২০২৬ ৫:২৯ পিএম
ইরানের মিসাইল শক্তি: ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’ ও হাইপারসনিক আতঙ্ক

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের জেরে ইরানের পাল্টা হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ধারাবাহিক ড্রোন ও মিসাইল হামলার পর প্রশ্ন উঠেছে—তেহরানের দখলে ঠিক কী পরিমাণ সামরিক সক্ষমতা রয়েছে? প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, অঞ্চলটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডারই সবচেয়ে বড় এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ।

ইরানের অস্ত্রভান্ডারে স্বল্প ও মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল রয়েছে, যা নির্ভুলভাবে দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ১৫০ থেকে ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার ‘জুলফিকার’ ও ‘কিয়াম-১’-এর মতো মিসাইল কাছাকাছি টার্গেটে আঘাত হানতে ব্যবহৃত হয়। এর আগে ২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যার জবাবে ইরাকের আইন আল-আসাদ ঘাঁটিতে এ ধরনের মিসাইল ব্যবহার করে সফলতা পেয়েছিল তারা। এছাড়া দেড় থেকে দুই হাজার কিলোমিটার পাল্লার ‘শাহাব-৩’, ‘সেজ্জিল’ ও ‘খোররামশহর’ মিসাইল ইসরায়েল ছাড়াও সৌদি আরব বা কাতারে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর জন্য বড় হুমকি। বিশেষ করে সলিড ফুয়েলে চলা ‘সেজ্জিল’ মিসাইল খুব দ্রুত মোতায়েন করা যায় বলে এটি যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

শুধু মিসাইল নয়, ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইলেও শক্তিশালী অবস্থানে ইরান। আড়াই হাজার কিলোমিটার পাল্লার ‘সুমার’ ক্রুজ মিসাইল রাডার ফাঁকি দিয়ে মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়ে যেতে পারে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে জিম্মি করতে তারা সস্তা ড্রোনের ঝাঁক ব্যবহার করে থাকে। এছাড়াও তারা হাইপারসনিক ‘ফাত্তাহ’ মিসাইলের কথা দাবি করেছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, দীর্ঘদিন ধরে মাটির নিচে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ইরান ‘মিসাইল সিটি’ তৈরি করেছে। এই ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যেকোনো হামলার মুখেও দীর্ঘ সময় ধরে পাল্টা আক্রমণ চালানো সম্ভব তাদের।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...