খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ: টেক্সাসে হামলা, কানাডায় স্লিপার সেলের তৎপরতা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ইরান সমর্থিত গুপ্ত ঘাতক দল বা ‘স্লিপার সেল’ সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। খামেনির মৃত্যুর খবর আসার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি বারে এবং কানাডার ওন্টারিওতে একটি বক্সিং ক্লাবে বন্দুকধারীর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তর আমেরিকাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
টেক্সাসের অস্টিন শহরের সিক্সথ স্ট্রিট ডিস্ট্রিক্টে স্থানীয় সময় রোববার ভোরে একটি বারে এক বন্দুকধারী অতর্কিতে গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত এবং অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ৫৩ বছর বয়সী সন্দেহভাজন এনডিয়াগা দিয়াগন নিহত হয়েছেন। তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই জানিয়েছে, দিয়াগনের পরনে ছিল ‘প্রপার্টি অব আল্লাহ’ লেখা হুডি এবং তার বাসা থেকে ইরানের বর্তমান নেতাদের ছবি ও দেশটির পতাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এফবিআই ও জয়েন্ট টেরোরিজম টাস্ক ফোর্স ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ হিসেবে তদন্ত করছে।
অন্যদিকে, খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কানাডার ওন্টারিওয়ের রিচমন্ড হিলে একটি বক্সিং ক্লাবে বন্দুকধারীর হামলা হয়। ইরানি শাসনের কট্টর সমালোচক ও বক্সিং চ্যাম্পিয়ন সালার গোলামির মালিকানাধীন সালিওয়ান বক্সিং ক্লাবে অন্তত ১৭ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। ওই জিমের জানালায় ইরানের বর্তমান সরকারবিরোধী পতাকা থাকায় এই হামলাকে সুনির্দিষ্ট টার্গেট করা বলে মনে করছে পুলিশ।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং আইন প্রণেতারা আশঙ্কা করছেন যে, খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ইরান বিশ্বজুড়ে তাদের গুপ্ত নেটওয়ার্ক বা স্লিপার সেলগুলো সক্রিয় করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ঘটনা ঘটায় দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

