বাবার গুমের খবর শুনতে শুনতেই পরীক্ষা দিতে গেল ছেলে
স্বামী বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যে কঠিন দিনগুলো পার করতে হয়েছে, সেই কথা জানালেন তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি বর্ণনা করেছেন, কীভাবে বাবার গুমের খবর শুনতে শুনতেই পরীক্ষার হলে যেতে হয়েছিল তাদের বড় ছেলেকে। গত রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তাহসিনা রুশদীর লুনা তার বক্তব্যে স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল তার স্বামী গুম হন। তার পরদিন ১৮ এপ্রিল তাদের বড় ছেলের ইন্টারমিডিয়েট কেমিস্ট্রি পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষার হলে নিয়ে যাওয়ার পথে ট্রাফিক সিগন্যালে পত্রিকার হকাররা স্লোগান দিচ্ছিল ‘ইলিয়াস আলী গুম’। পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েই ছেলেটি এই শোনার মুখোমুখি হয় এবং সেই কথা শুনতে শুনতেই সে পরীক্ষা হলে প্রবেশ করে।
এছাড়াও ছোট মেয়েকে নিয়ে তাদের পরিবারের ভোগান্তির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তিনি জানান, স্কুলে মানুষজন তার মেয়েকে বাবার খোঁজ নেয় এবং অনেকে হাসাহাসি করত। এক পর্যায়ে মেয়েকে স্কুল বদলাতে বাধ্য হন তারা। সন্তানদের এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতে তিনি পরবর্তীতে তাদের আর গণমাধ্যমের সামনে আনা বন্ধ করে দেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় গুমের শিকার পরিবারগুলোর সদস্যরা ন্যায়বিচারের দাবি জানান।

