সংখ্যালঘু সুরক্ষায় গণতন্ত্রের বিকল্প নেই বললেন মির্জা ফখরুল
দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে সব নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার স্বাভাবিকভাবে সুরক্ষিত থাকবে এবং উগ্রবাদ বা মৌলবাদ কোনোভাবেই প্রশ্রয় পাবে না। শুক্রবার রাজধানীতে সনাতন পরিষদ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলিম সবার প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক ঐতিহ্যবাহী দেশ। এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সম্প্রীতির সাথে বসবাস করে আসছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, কিন্তু স্বাধীনতার পর দায়িত্বপ্রাপ্তরা গণতন্ত্রের পরিবর্তে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করায় সেই চেতনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তিনি মনে করেন, দেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার। মন্ত্রী জানান, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নে সরকার প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী নিয়োগ দিয়েছে এবং বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। এছাড়া এবার জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য দেওয়া মনোনয়নের মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বী, মতুয়া সম্প্রদায়, সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সবাইকে নিয়ে রাজনীতি করার এই উদ্যোগকে তাদের ৩১ দফার রেইনবো স্টেট বা রঙিন রাষ্ট্রের ধারণা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন।

