চট্টগ্রামে গ্যাসের তীব্র সংকট, স্থবির শিল্প ও জনজীবন
চট্টগ্রামের অর্থনীতি ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখন হুমকির মুখে। গ্যাস সরবরাহের গভীর সংকটে পড়ে শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে সড়ক পরিবহন—সব ক্ষেত্রেই নেমে এসেছে মারাত্মক বিপর্যয়। উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরাও।
শিল্প এলাকাগুলোতে গ্যাসের অপ্রতুল চাপের কারণে কারখানাগুলোর উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। অনেক কারখানায় তো উৎপাদন বন্ধ হয়েই গেছে। এর প্রভাবে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতেও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
একই পরিস্থিতি চট্টগ্রামের পরিবহন খাতে। বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কর্ণফুলী গ্যাস লিমিটেডের স্টেশনে সকাল ৬টা থেকে অপেক্ষা করছিলেন অটোরিকশা চালক নুরুল আলম। কিন্তু দুপুর ১২টা বাজলেও তার গাড়িতে গ্যাস তোলা সম্ভব হয়নি। পাম্প বন্ধ থাকায় হতাশ হয়ে তিনি বলেছেন, দিনভর অপেক্ষার পরও গ্যাস না পাওয়ায় গাড়ি চালানোই অসম্ভব হয়ে পড়েছে তার পক্ষে।
এই সংকট শুধু কর্মক্ষেত্রেই নয়, ঘরে ঘরেও ছড়িয়ে পড়েছে। রান্নার গ্যাসের চাপ না থাকায় দুর্ভোগে পড়ছেন গৃহিনীরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। শিল্প, পরিবহন ও আবাসিক—সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের জীবনযাত্রা এখন ধুঁকছে।

