আদালতের রায়-গেজেটের পরও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, বৈষম্যের অভিযোগ
আদালতের রায়, সরকারি গেজেট ও অতীতে সরকারি নিয়োগের নজির থাকার পরও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে স্বাস্থ্য প্রযুক্তিতে ডিপ্লোমাধারী মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সনদ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে প্রশ্ন তোলার অভিযোগ উঠেছে। এতে নতুন করে হয়রানি ও বৈষম্যের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কারিগরি মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের দাবি, ২০১৩ সালের সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগে তারা আদালতের দ্বারস্থ হন। ২০১৬ সালের ২৪ মে হাইকোর্টের রায়ে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের ডিপ্লোমাধারীদের সরকারি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদে প্রতিযোগিতার সমান সুযোগের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় বলে তারা দাবি করেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের লিভ টু আপিল নং ১৪২৩/২০১৭-এর আদেশে ওই রায় বহাল থাকে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানান।
এরপর ২০১৮ সালের ২৪ মার্চ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ বিভিন্ন স্বাস্থ্য পদে নিয়োগের যোগ্যতা ও পদ্ধতি নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করে। এতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে তারা দাবি করছেন।
সংশ্লিষ্টদের আরও দাবি, কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২০ সালে সরাসরি রাজস্ব খাতে নিয়োগ পাওয়া ২০২ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টের মধ্যে প্রায় ৮০ জন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ডিপ্লোমাধারী ছিলেন। একই সময়ে মেধার ভিত্তিতে আরও ১৫০ জনের বেশি কারিগরি ডিপ্লোমাধারী সরকারি চাকরি পান বলে তারা জানান।
তাদের অভিযোগ, বর্তমানে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সনদ, প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। কোথাও কোথাও সনদকে ‘ভুয়া’ প্রমাণের চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কারিগরি মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের দাবি, কোনো সনদ বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা যথাযথ সরকারি কর্তৃপক্ষ ও আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে বৈষম্য বন্ধ করে সমসুযোগ নিশ্চিত করতে ‘ওয়ান আমব্রেলা কনসেপ্ট’ বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
তাদের বক্তব্য, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না; আদালতের রায়, সরকারি বিধান ও অতীতের নিয়োগের নজির অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার ও বৈষম্যহীন কর্মসংস্থানের সুযোগ চান।

