সমুদ্রে অসাধারণ সাহসিকতা, আইএমও পুরস্কার পাচ্ছেন চট্টগ্রাম বন্দরের আসিফ
সমুদ্রে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় অসাধারণ সাহস ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদ। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (IMO) তাকে মর্যাদাপূর্ণ ‘লেটার অফ কমেন্ডেশন’ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করেছে। আগামী ১৪ ডিসেম্বর লন্ডনে আইএমওর সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন তিনি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এলপিজি ক্যারিয়ার ‘গ্যাস হারমোনি’কে ইউনাইটেড ট্যাংক টার্মিনাল জেটিতে ভেড়ানোর দায়িত্ব পালন করছিলেন। ১৫৯ দশমিক ৯ মিটার দীর্ঘ জাহাজটিতে তখন ৫১৫ টন প্রোপেন এবং ৪ হাজার ৫৭০ টন বিউটেন গ্যাস ছিল। হঠাৎ কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই জাহাজটির ইঞ্জিন ও স্টিয়ারিং বিকল হয়ে পড়ে। সবশেষে প্রবল স্রোতের টানে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে কাফকো অ্যামোনিয়া জেটির দিকে ধেয়ে যেতে থাকে।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, দাহ্য গ্যাসবোঝাই জাহাজটি জেটিতে ধাক্কা দিলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটার সম্ভাবনা ছিল। এতে ব্যাপক প্রাণহানির পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারত এবং দীর্ঘদিন বন্দর অচল হয়ে পড়ার ঝুঁকি ছিল। এমন সংকটকালীন মুহূর্তে নিজের প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন ক্যাপ্টেন আসিফ। তিনি জরুরি ভিত্তিতে দুটি নোঙর ফেলার নির্দেশ দিয়ে কৌশলগতভাবে জাহাজটির গতি থামিয়ে দেন। তার এই দ্রু়তা ও বুদ্ধিমত্তার কারণে জেটি থেকে মাত্র পাঁচ ফুট দূরত্বে গিয়ে থেমে যায় গ্যাস হারমোনি।
আইএমওর ‘এক্সেপশনাল ব্রেভারি অ্যাট সি’ বিশ্ব মানের একটি সম্মাননা। নিজের জীবন বাজি রেখে সমুদ্রে বড় ধরনের দুর্ঘটনা রোধে ভূমিকা রাখার জন্য এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর আগে জাহাজটির ক্যাপ্টেন ও মালিকপক্ষও ক্যাপ্টেন আসিফের এই কৃতিত্বের প্রশংসা করেছিলেন।

