সৌদিতে চারবার বিক্রি, ধর্ষণের শিকার প্রবাসী নারীর হাহাকার

প্রাইম বার্তা অনলাইন
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৪:২৩ এএম
সৌদিতে চারবার বিক্রি, ধর্ষণের শিকার প্রবাসী নারীর হাহাকার

সৌদি আরব থেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে দেশে ফেরা বাংলাদেশি নারী রিজিয়া বেগমকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সহযোগিতায় আঙুলের ছাপের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরার আশকোনায় ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। একই অনুষ্ঠানে সৌদি আরবে চারবার বিক্রি এবং পালাক্রমে ধর্ষণের শিকার হওয়া আরেক নারীর হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার কথাও জানা যায়।

১২ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অসংলগ্ন অবস্থায় পাওয়া যায় রিজিয়াকে। তার কাছে কোনো পাসপোর্ট ছিল না এবং নিজের পরিচয়ও দিতে পারছিলেন না। পরে পিবিআই তার আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারের সাথে মিলিয়ে তাকে মৌলভীবাজারের বড়লেখার বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করে। রিজিয়ার মেয়ে লিজা আক্তার জানান, ২০১৯ সালে একটি এজেন্সির মাধ্যমে তার মা গৃহকর্মীর কাজে সৌদি যান এবং ২০২১ সালের পর থেকে পরিবারের সাথে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। নির্যাতনের কারণে তার মা’য়ের শারীরিক অবস্থার এতটাই অবনতি হয়েছে যে তাকে চেনাই দায়।

অনুষ্ঠানে ‘রিমা আক্তার’ (ছদ্মনাম) নামে অন্য এক নারী জানান, দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় গত বছর জুলাইয়ে তিনি সৌদি গিয়েছিলেন। সেখানে তাকে চারবার বিক্রি করা হয় এবং একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হতে হয়। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। পিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, ভুক্তভোগী নারী শ্রমিকের পরিচয় শনাক্তে এটিই প্রথম এবং পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া এমন নিপীড়িত নারীদের সহায়তায় বিমানবন্দরে একটি আনুষ্ঠানিক নীতিমালা (এসওপি) থাকার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...