বিশ্বকাপে বাবর আজম: অভিজ্ঞতা নাকি ধীরগতির ব্যাটিংয়ের বোঝা?
পাকিস্তানের ক্রিকেটে বাবর আজম এক প্রতিষ্ঠিত নাম হলেও আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাকে দলে রাখা নিয়ে চলছে জোর বিতর্ক। একসময় তার কভার ড্রাইভ ও ধারাবাহিকতা সবাইকে মুগ্ধ করলেও, সাম্প্রতিক সময়ে রানের গতি কমে যাওয়ায় তার খেলার ধরণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়ার পর অক্টোবরে তিনি আবার দলে ফিরলেও দলের সমন্বয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ব্যর্থতার পর আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের লক্ষ্যে পিসিবি বাবরকে দল থেকে বাদ দেয়। ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তার টি-টোয়েন্টি স্ট্রাইক রেট ছিল মাত্র ১২৯.৩৭। নিউজিল্যান্ড সফরের পর বাবর ও রিজওয়ান ছাড়া ২৬টি ম্যাচে পাকিস্তান জয় পায় ১৫টিতে। অথচ কোচ মাইক হেসনের স্ট্রাইক রেট বাড়ানোর শর্ত পূরণ না করেই অক্টোবরে তাকে দলে ফেরানো হয়। ফিরে এসে ৮ ম্যাচে ২০৬ রান করলেও তার স্ট্রাইক রেট দাঁড়ায় ১১৪.৪৪, যেখানে তিনবার শূন্য রানে ফিরেছেন।
বাবরের ফেরায় দলের ব্যাটিং লাইন-আপে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। ওপেনার ফখর জামানকে নিচের দিকে ব্যাট করতে পাঠানোয় তার প্রভাব কমেছে। অভিজ্ঞতার কারণে তাকে দলে রাখার যুক্তি উত্থাপিত হলেও বর্তমান অধিনায়ক সালমান আগার উপস্থিতিতে একই ধরনের আরেকজন ব্যাটারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। চাপের মুখে পুরনো মুখের দিকে ফিরে যাওয়া পাকিস্তানের জন্য কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।
অতীতে বিশ্বকাপে অবসর ভেঙে আমির বা ইমাদকে ফেরানোর সুফল পায়নি পাকিস্তান। এবারও কি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা থেকে সরে গিয়ে বাবরকে রাখা হচ্ছে? আইসিসির মেগা ইভেন্টে তার ধীরগতির ব্যাটিং দলের গতির বাধা হয়ে দাঁড়াবে নাকি অভিজ্ঞতার জেরে দল সাফল্য পাবে—সেই উত্তরটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

