চরম সংকটে আইসিসি, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিলের খেসারত দিতে হবে বিশ্ব ক্রিকেটকে
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) নতুন করে চাপে ফেলেছে পাকিস্তান। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি যাতে বয়কট না হয়, সেজন্য পাকিস্তান সরকার ও তাদের ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) রাজি করাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে আইসিসি এবং শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন যে বাবর আজম বা শাহীন শাহ আফ্রিদিরা ভারতের বিরুদ্ধে খেলবেন না এবং দেশটি তাদের সিদ্ধান্তে অনতিক্রম্য রয়েছে।
এই ম্যাচটি এখন কেবল খেলাধুলার প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং এটি বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সম্পদ হিসেবে পরিগণিত। আইসিসির হিসাব মতে, একটি মাত্র ভারত-পাকিস্তান খেলা থেকে প্রায় ২০০ কোটি রুপি বা ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি প্রায় ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা) আয় হয়। ২০২৩ সালে জিও হটস্টার আইসিসির সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছিল ৩ বিলিয়ন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা), যেখানে এই ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ম্যাচটি বাতিল হলে চলতি বিশ্বকাপ এবং আগামী দিনের টুর্নামেন্টগুলোর আর্থিক কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে এবং সম্প্রচারক প্রতিষ্ঠানটি চুক্তি নবায়নে অনীহা দেখাতে পারে।
এই আর্থিক দুর্যোগের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের মতো ক্রিকেট বোর্ডগুলোর ওপর, যারা আইসিসির রাজস্ব বণ্টন থেকেই বড় অংশের অর্থ পায়। ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে এই খাত থেকে আইসিসির আয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি প্রায় ৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা)। অন্যদিকে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড নিজস্ব দ্বিপাক্ষিক সিরিজ থেকেই বিপুল অর্থ উপার্জন করে, তাই আইসিসির এই ক্ষতি তাদের ওপর তেমন আঘাত হানবে না। ফলে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে তৈরি এই সংকট এখন বিশ্ব ক্রিকেটের অস্তিত্বের প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

