হামলার আশঙ্কায় গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র তুলেছিলাম: ইশরাক হোসেন

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১৮ অক্টোবর ২০২৬ ২:১৫ পিএম
হামলার আশঙ্কায় গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র তুলেছিলাম: ইশরাক হোসেন

মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে ব্যক্তিগত লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরার ঘটনায় জনমনে যে আলোচনা তৈরি হয়েছিল, তার আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তার ব্যাখ্যা, রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া মারমুখী পরিস্থিতি মোকাবিলায় জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে খুবই অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র তোলা হয়েছিল। এরপর পুলিশের সরাসরি তত্ত্বাবধানে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং মাদকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ হয়।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে ঘটনাটি ঘটে। ইশরাক হোসেনের বরাত দিয়ে বলা হয়, কর্মসূচির সময় একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী হইচই করে গাড়িবহরের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ছুটে আসে। সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কায় তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওই আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং এর ব্যবহার সম্পূর্ণ আইনি কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

প্রতিমন্ত্রীর দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক ও করাতিটোলাসহ আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে বারবার অভিযোগ পাওয়া আসছিল। তার ভাষ্যমতে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এই এলাকা মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়। গত জুনে মাদক-সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় তিন নিরীহ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর তিনি সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিক সমন্বয় সভা করেন।

জনবলসংকট দূর এবং মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় আধাসরকারি পত্র (ডিও লেটার) পাঠানো হয়েছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সেই উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়নাধীন। পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক-সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অংশগ্রহণে সমন্বিত প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই ১৭ অক্টোবর তিনি ওই এলাকায় যান। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়; এরপর পুলিশের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে সন্দেহভাজন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করা সম্ভব হয়।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...