শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল আজ
শেয়ারবাজারে কারসাজি ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজ বুধবার দিন ধার্য রয়েছে। এই মামলায় দেশের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে প্রতিবেদনটি পেশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে গত ২৭ জুলাই মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে সময়মতো তদন্ত শেষ করতে না পারায় দুদক সেদিন প্রতিবেদন দিতে পারেনি। পরবর্তীতে আদালত আজকের তারিখ নির্ধারণ করে দেয়।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৭ জুন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ১২০(বি) ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব ব্যবহার করে প্রতারণামূলক ট্রেডিং, গ্যাম্বলিং ও স্পেকুলেশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়েছেন। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং এ কারসাজির মাধ্যমে ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রধান আসামি সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক আবুল খায়ের (হিরু) তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের সহায়তায় ২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ টাকা বিভিন্ন মাধ্যমে স্থানান্তর করে অর্থের উৎস গোপন করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার নামে পরিচালিত ১৭টি ব্যাংক হিসাবে ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গিয়েছিল। প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ও সোনালী পেপারস লিমিটেডের শেয়ারে কারসাজি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে সাকিব আল হাসান ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইনের নামে আত্মসাৎ করেছেন বলে দুদকের দাবি।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ মতিন, জাহেদ কামাল ও তানভীর নিজাম। আজ পেশ হওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের দিক নির্ধারিত হবে বলে আদালত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

