শরীরে ১৫০ পেলেট: মেনন-কামরুলের বিরুদ্ধে জুলাইযোদ্ধার জবানবন্দি
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন সি ক্যাটাগরির গেজেটেড জুলাইযোদ্ধা মো. নবী হোসেন সজিব। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে তিনি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দেন। পেশায় গ্রিল মিস্ত্রি এই যোদ্ধা আদালতে জানান, ছররা গুলির আঘাতে তার শরীরে এখনো প্রায় ১৫০টি পেলেট রয়ে গেছে।
মামলায় মেনন ও কামরুলের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য, শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতায় ধরে রাখতে তারা নানা সময়ে উসকানিমূলক ভূমিকা রাখেন। আওয়ামী লীগ সরকার ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ পদে বসে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং কারফিউ জারির পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে রাজধানীর বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয় বলে জানানো হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানকালে বাড্ডা ও আশপাশের এলাকায় ২৩ জন প্রাণ হারানোর দুটি ঘটনায় দুজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর গ্রেফতার হয়ে তারা দুজনই কারাগারে আছেন।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাইয়ের ঘটনা তুলে ধরে সজিব জবানবন্দিতে বলেন, মেরুল বাড্ডার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় তার বাসার খুব কাছেই। ওই দিন পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সদস্যরা সেখানে এসে কোনো সতর্কতাবাণী ছাড়াই সরাসরি গুলি চালায়। এতে উত্তর বাড্ডায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ও মধ্য বাড্ডা ইউটার্নের সামনে একজন করে তিনজন নিহত হন, আহত হন আরও বহু মানুষ। তিনি জানান, ছাত্রদের সঙ্গে হাতে হাত রেখে আহতদের রিকশা ও ভ্যানে তুলে সরিয়ে নিয়েছেন। রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা রক্ত দেখে বমি পাওয়ায় তিনি বাসায় ফিরে যান। পরদিন রামপুরার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় টিভি সেন্টারের সামনে মেইন রোড থেকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি করা হলে দুজন নিহত ও অনেকে আহত হন।
৫ আগস্টের ঘটনা বর্ণনা করে সাক্ষী বলেন, ওই দিন তিনি মেরুল বাড্ডার ১৫ নম্বর রোডে আন্দোলনে যোগ দেন। পুলিশ মেইন রোড ঘিরে রাখলেও ছাত্রদের ডাকে তারা সেদিকে এগোন। এ সময় পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও র্যাবের সদস্যরা তাদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। সজিব গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন, আরও দুজন প্রাণ হারান। আদালতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির চিহ্ন প্রদর্শন করে তিনি বলেন, আমার শরীরে প্রায় ১৫০টি পেলেট আছে। নিহত দুজনের একজনের পেটে গুলি লেগে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল, অন্যজনের তলপেটে লাগা গুলি পেছন দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল বলেও জানান তিনি।
কুর্মিটোলা ও ঢাকা সিএমএইচে চিকিৎসা নেওয়ার কথা জানিয়ে সজিব বলেন, সিএমএইচে চিকিৎসকরা তার শরীর থেকে ২৫টি পেলেট বের করেছেন। তবে পিঠের হাড়ের ভেতর আটকে থাকা একটি পেলেট এখনো রয়ে গেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের এমন আহত সাক্ষীদের জবানবন্দির মাধ্যমে এগিয়ে চলেছে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া।

