৯ হাজার অভিযানে মালয়েশিয়ায় আটক ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী

প্রাইম বার্তা অনলাইন
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:২৯ এএম
৯ হাজার অভিযানে মালয়েশিয়ায় আটক ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী

চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারা ভঙ্গের দায়ে মালয়েশিয়ায় ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে (পিএটিআই) গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। একই সময়ে পুরো দেশে ৯ হাজার ৭০০-র বেশি অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ওপর জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি পরিচালনা করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের (জেআইএম) উপমহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি সোমবার ভোরে এক সমন্বিত অভিযান শেষে সাংবাদিকদের এ হিসাব দেন।

জেআইএমের এই শীর্ষ কর্মকর্তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আটককৃতদের মধ্যে ৩৫ হাজারের বেশি জনকে বিভাগের নিজস্ব অভিযানে ধরা হয়েছে। বাকি ২২ হাজারের বেশি বিদেশিকে দেশের প্রবেশপথে বা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে হস্তান্তরের মাধ্যমে আটক করা গেছে। ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর—এই ২৬০ দিনে প্রতিদিন গড়ে ৩৭টি করে অভিযান হয়েছে। ফ্ল্যাট শ্রী কলাম আবাসিক এলাকায় সোমবার ভোরের সমন্বিত অভিযানে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এমকেএন), জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন) ও মালয়েশিয়া সিভিল ডিফেন্স ফোর্সের (এপিএম) সদস্যরাও অংশ নেন। সেখানে ১৩৩ জন বিদেশিকে পরীক্ষা করে বিভিন্ন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৯ জনকে আটক করা হয়। অভিযানে মূলত নির্ধারিত মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থান, বৈধ ভ্রমণ নথির অভাব এবং পাস বা ওয়ার্ক পারমিটের অননুমোদিত ব্যবহারের মতো লঙ্ঘন শনাক্ত হয়েছে।

তবে লোকমান এফেন্দি জানিয়েছেন, তদন্ত ও ব্যবস্থা শুধু বিদেশিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বৈধ কর্মসংস্থান পাস ছাড়া অবৈধ অভিবাসীকে নিয়োগ বা আশ্রয় দিলে নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হবে, আর তাদের কাছে বাড়ি বা ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ভাড়া দেওয়া মালিকরাও আইনের আওতায় আসবেন। ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ৭২০ জন নিয়োগকর্তা বা স্থাপনার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা ২৬০ দিনের হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয়জন।

অবৈধ অভিবাসীর উপস্থিতি বা আইন লঙ্ঘনের খবর পেলে জনগণকে নিজের হাতে ব্যবস্থা না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “কোনো অনিয়ম দেখলে নিজেরা ব্যবস্থা নেবেন না। বরং পূর্ণাঙ্গ তথ্য, সম্ভব হলে ছবি দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করুন। এতে দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।” তাঁর আশঙ্কা, সাধারণ মানুষ সরাসরি হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি জটিল রূপ নিতে পারে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...