মাত্র দুই সাবমেরিন ক্যাবলের ভরসায় দেশ, বাড়ছে ইন্টারনেট বিপর্যয়ের ঝুঁকি

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪:৫২ পিএম
মাত্র দুই সাবমেরিন ক্যাবলের ভরসায় দেশ, বাড়ছে ইন্টারনেট বিপর্যয়ের ঝুঁকি

প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতির প্রাণ হিসেবে পরিচিত সাবমেরিন ক্যাবল নির্মাণে ব্যাপক পিছিয়ে বাংলাদেশ। দেশে প্রতি দুই বছরে ব্যান্ডউইথের চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে, অথচ আন্তর্জাতিক সংযোগের এই অবকাঠামো রয়েছে মাত্র দুটি। তুলনামূলক চিত্র আরও উদ্বেগজনক – প্রতিবেশী ভারতে আছে ২০টি আর পাকিস্তানে ৭টি সাবমেরিন ক্যাবল। এই অনৈক্যের কারণে দেশের ইন্টারনেট খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।

বিশ্বের নানা দেশ একের পর এক নতুন সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনে এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশে তাৎপর্যপূর্ণ কোনো অগ্রগতি চোখে পড়ে না। বেসরকারি পর্যায়ে নির্মাণাধীন একটি ক্যাবলের কাজকেও আটকে রাখছে খোদ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভূরাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টিও।

ব্যয়বহুল এই নির্ভরতার আর্থিক দিকও চিন্তার বিষয়। আইটিএস পথে ব্যান্ডউইথ আমদানির জন্য গত ১৩ বছরে ভারতকে শোধ করতে হয়েছে প্রায় ৩শ মিলিয়ন ডলার। খাত সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই বিশাল অর্থ দিয়ে দেশে একাধিক সাবমেরিন ক্যাবল নির্মাণই করা যেত।

বর্তমানে দেশে সচল আছে সরকারি মালিকানার দুটি ক্যাবল – সি-মি-উই-৪ ও সি-মি-উই-৫। আরেকটি সরকারি ক্যাবল নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হলেও সেটি প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। ২০২৩ সালের শেষ দিকে দেশের প্রথম বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল বাস্তবায়নে কনসোর্টিয়াম গঠন করে লাইসেন্সপ্রাপ্ত তিনটি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্যাবল সিস্টেমের অধীনে সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড, সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেড ও মেটাকোর সাবকম লিমিটেড প্রকল্পের কাজ অনেকটা এগিয়ে নিয়েছে। দেশের সাতটি মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র পেলেও আটকে রয়েছে অনুমোদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থায় (এনএসআই)। এর বাইরে বৃহত্তম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। অথচ প্রকল্পটিতে কনসোর্টিয়ামটি ইতোমধ্যে ৩২ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ বিনিয়োগ করে ফেলেছে।

এ মুহূর্তে দেশে ব্যান্ডউইথের সরাসরি সংকট না থাকলেও নতুন ক্যাবল না যোগ হলে অদূর ভবিষ্যতে সেই সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলাতে বেসরকারি উদ্যোগের পথ সহজ করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন তারা।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...