৩৬ বছর একই গ্রেডে এটিইওরা
প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থার বিকল্প নাই। সরকার পঠন দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষে মৌলিক স্বাক্ষরজ্ঞান ও সংখ্যা জ্ঞান ( এফএলএন) সহ বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। মাঠ পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নের কাজ চলমান আছে। বিগত সরকারের আমলে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন থমকে যায়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৮০ দিনের কর্মসূচি হাতে নেয়। এ কর্মসূচির মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাকে উন্নত করতে সরকার নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন ও জীবনমান উন্নত করার কার্যক্রম শুরু করেছে। ইতিমধ্যে প্রধান শিক্ষকদের বেতনের স্কেল দশম গ্রেড বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল উন্নিত করার কাজ চলমান। অথচ প্রাথমিক শিক্ষার মাঠ পর্যায় কর্মরত এটিইওদের বেতন গ্রেড দীর্ঘ ৩৬ বছরে উন্নিত হয়নি। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ৯ম গ্রেড বাস্তবায়ন না হওয়ায় চরম হতাশা বিরাজ করছে। মাঠ পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা হিসেবে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বিদ্যালয় পরিদর্শন করে প্রধান শিক্ষককে প্রশাসনিকসহ সকল শিক্ষককে একাডেমিক পরামর্শ প্রদান করে থাকেন। এছাড়া, প্রধান শিক্ষককে বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) প্রদানসহ সহকারী শিক্ষকদের এসিআর প্রতিস্বাক্ষর করেন। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পদটি সমগ্রেড হওয়ায় মাঠ প্রশাসনে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। গত ৩ দশক ধরে এটিইওরা তাদের পদটিকে ৯ম গ্রেড করার দাবি করে আসলেও কর্তৃপক্ষ শুধু আশ্বাস দিয়ে আসছে।
এছাড়া, প্রধান শিক্ষক পদ দশম গ্রেড হওয়ায় এখন মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা প্রশাসনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে চ্যালেঞ্জ।
সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি শাখা থেকে এটিইওদের ৯ম গ্রেড প্রস্তাব ফেরত দেওয়ার পর এটিইওদের মধ্যে হতাশা আরো বেড়েছে।
সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড এক হওয়ায় প্রাথমিকের মাঠ প্রশাসনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কারণ এটিইওদের বিব্রতকর পরিস্থিতির কারণে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের আদেশ ও নির্দেশনা পালনে প্রধান শিক্ষকদের জোরালোভাবে চাপ দিতে পারছেন না।
সারাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পারদর্শিতা যাচাই করার জন্য মৌলিক স্বাক্ষরতাজ্ঞান ও মৌলিক সংখ্যাজ্ঞান যাচাই শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রম গ্রহণের পর থেকে মাঠ পর্যায়ের এটিইওরা প্রতিনিয়ত শিশুদের শিখন ঘাটতি এবং পারদর্শিতার স্তর নির্ণয় করছেন। শিশুদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য ইতিমধ্যে বর্তমান সরকার দেশের ১৫০ টি উপজেলায় কার্যক্রম শুরু করেছেন। আগামী জানুয়ারি থেকে তা সারাদেশে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি জরুরী মনিটরিং এবং মেণ্টরিং কার্যক্রম। এ কাজটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করছেন মাঠ পর্যায়ের সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারেরা। বাংলাদেশে এটিইও পদ বর্তমানে ২৬০৭ টি। কিন্তু বিভিন্ন কারণে পদশুন্য সহস্রাধিক। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি দরকার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রেষণা প্রদান। ১৯৯০ সালের আগস্ট এটিইও পদটি দ্বিতীয় শ্রেণী ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীকালে ১৯৮৫ সালের নিয়োগ বিধি সংশোধন করে ১৯৯৪ সালে পদটি দশম গ্রেড করা হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর পদকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করা হলেও এটিইও পদটি দ্বিতীয় শ্রেণীর রয়ে গেছে। প্রধান শিক্ষকদের পদকে দশম গ্রেড ঘোষণা করা হয়েছে।
১৯৯৬ সালের পর থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পিটিআই এর ইন্সট্রাক্টর পদটি ৩য় শ্রেণি থেকে ১ম শ্রেনি, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও পিটিআইয়ের সুপার পদটি ৯ম গ্রেড থেকে ৬ষ্ট গ্রেড, উপজেলা রিসোর্স সেন্টার ( ইউআরসি) এর ইন্সট্রাক্টর পদটি প্রকল্প থেকে ৯ম গ্রেড রাজস্বখাতে, প্রধান শিক্ষকদের ১৬ গ্রেড থেকে ১১ তম গ্রেড, সহকারী শিক্ষকদের ১৮ তম গ্রেড থেকে ১৩ তম গ্রেডে উন্নীত করা হলেও পিএসসি কর্তৃক রাজস্বখাতে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পদটির গ্রেড উন্নয়ন হয়নি। এছাড়া দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে মাঠ পর্যায়ের এসব কর্মকর্তা কাঙ্খিত পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত থাকায় দাপ্তরিক ও সামাজিক পরিমন্ডলে পদমর্যাদা নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখিন হচ্ছেন। আবার ৯ম গ্রেড না পাওয়ায় কর্মস্পৃহা কমে গেছে।

