বেনজীর ফিরিয়ে আনতে দেরি নয়, ৪ দিনেই প্রত্যর্পণ চিঠি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে স্বদেশে ফেরানোর লক্ষ্যে গ্রেপ্তারের মাত্র চার দিনের মাথায় আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন জারি করা হয়। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি-বিধির ১৪৭ বিধি মোতাবেক সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমের উত্থাপিত সাধারণ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় তিনি এ কথা বলেন। বিলম্বের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মন্ত্রী দাবি করেন, বেনজীরকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় সরকারের তরফ থেকে কোনো অলসতা বা গাফিলতি হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদের নামে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ বহাল রয়েছে। ২০২৬ সালের ১২ জুন আমিরাতের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি এনসিবি ঢাকাকে সরাসরি জানায়, বেনজীর আহমেদকে তারা গ্রেপ্তার করেছে। আমিরাতের আইনে প্রত্যর্পণ আবেদনের জন্য ৩০ দিন সময় পাওয়া গেলেও সরকার সেই সময়সীমার অপেক্ষা না করে ১৬ জুন কূটনৈতিক পথে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠায় এবং একই দিনে এনসিবি আবুধাবিতে এর অনুলিপিও পৌঁছে দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ও আমিরাতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় আমিরাতের নিজস্ব আইন ও পারস্পরিকতার নীতির ভিত্তিতেই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পরবর্তী অগ্রগতির বিবরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ৮ জুলাই আমিরাতের বিচার মন্ত্রণালয় পারস্পরিকতার নিশ্চয়তা, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, মামলার আইনি সীমাবদ্ধতা ও সত্যায়িত গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন নথি চায়; সেসব সহায়ক কাগজপত্র ৪ আগস্ট কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হয়। এরপর ২২ আগস্ট আমিরাতের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যাখ্যা এবং মামলা পরিচালনার সময়সীমা ও সাজা কার্যকরের মেয়াদ সংক্রান্ত আইনের পূর্ণাঙ্গ পাঠ চায়, যার জবাব দেওয়ার শেষ সময় ২২ সেপ্টেম্বর। এ ব্যাপারে আইন ও বিচার বিভাগের মতামত পাওয়া গেছে ১ সেপ্টেম্বর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের মতামত ২ সেপ্টেম্বর। সব মতামত একত্রিত করে চূড়ান্ত জবাব প্রস্তুতের কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সত্যায়ন ও আরবি অনুবাদ শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা পাঠানো হবে।
আইনি সহায়তার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, ৩০ জুলাই আবুধাবিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে হামদান আল কাবি অ্যাডভোকেটস অ্যান্ড লিগ্যাল কনসালটেন্সিকে প্রত্যর্পণ ও সংশ্লিষ্ট আইনি সহায়তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমিরাত থেকে বেনজীরের সেন্ট লুসিয়ায় চলে যাওয়ার গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রসঙ্গও এসময় উত্থাপিত হয়। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এখন আইনগত ধাপে থাকায় আসন্ন দিনগুলোতে আমিরাতের কর্তৃপক্ষের সাড়াই নির্ধারণ করবে বেনজীর প্রত্যাবর্তনের ভাগ্য।

