সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরুর গণ্ডি পেরিয়ে সবাই বাংলাদেশি: তারেক রহমান

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৫০ পিএম
সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরুর গণ্ডি পেরিয়ে সবাই বাংলাদেশি: তারেক রহমান

শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্টজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রে কেউ সংখ্যালঘু, কেউ সংখ্যাগুরু—এমন পার্থক্য মাথায় রেখে নয়, প্রত্যেকেই নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবে ভাবতে হবে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে পুরোহিত ও সেবাইতদের মাঝে সম্মানীও প্রদান করা হয়।

একটি রাষ্ট্রে নানা ধর্ম ও মতের মানুষ একসঙ্গে বাস করেন, আর এই সম্মিলনই বৈচিত্র্যময় সমাজের শ্রেষ্ঠ সৌন্দর্য—মন্তব্য করে সরকারপ্রধান জোর দিয়ে বলেন, দল, মত, ধর্ম, বর্ণ কিংবা পরিচয় কাউকে বিভক্ত করার হাতিয়ার হতে দেওয়া যাবে না। তাঁর ভাষায়, ইউরোপ কিংবা আমেরিকায় গেলে দেশের কথিত সংখ্যাগুরুরাও সেখানে সংখ্যালঘু হয়ে যান। তাই বর্তমান বৈশ্বিক গ্রামের যুগে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর পরিচয় কোনোভাবেই মুখ্য প্রশ্ন নয়; সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

পৌরাণিক কংসের সঙ্গে তুলনা টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশেও গণতন্ত্রকামী মানুষের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে নিষ্ঠুর এক ফ্যাসিস্ট শাসক দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় জনগণের ঘাড়ে চেপে বসেছিল। দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের মানুষ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে সেই কংসরূপী শাসকের পতন ঘটিয়েছে, আর এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের যাত্রা পুনরায় শুরু হয়েছে। ধর্মশাস্ত্রমতে, প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে মথুরার অত্যাচারী শাসক কংসের শাসনামলে কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্মগ্রহণ করেন সনাতন ধর্মের প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ, আর তাঁর আবির্ভাবেই কংসের পতন ঘটে। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন ছিল তাঁর অন্যতম ব্রত বলে বিশ্বাস করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

জন্মাষ্টমীর এই অনুষ্ঠানে তারেক রহমান স্পষ্ট করেন, এখন দেশ পুনর্গঠনের পালা। ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সচল করা, বিভাজিত প্রশাসনকে একাত্ম করা এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করাই বর্তমান সময়ের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...