জনপ্রশাসন সংস্কারে স্থবিরতা: সুপারিশ বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী ও বর্তমান সরকারের উদাসীনতা
২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে জনপ্রশাসনের আমূল সংস্কারের দাবি ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ গঠন করলেও তাদের দেওয়া দুই শতাধিক সুপারিশ বাস্তবায়নে কার্যত পদক্ষেপ নেই। ক্ষমতায় আসার ছয় মাস পার করলেও বর্তমান বিএনপি সরকার এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়নি, যা নিয়ে দেশে এখন হতাশা বিরাজ করছে।
গত ৩রা অক্টোবর সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরীর নেতৃত্বে কমিশনটি গঠন করা হয়েছিল। চার মাসের মধ্যে তারা ১৭টি অধ্যায়ে বিভক্ত একটি বিশাল প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে দেশকে চারটি প্রদেশে ভাগ করা, মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমানো, ডিসি ও ইউএনওর পদবি পরিবর্তন, বাধ্যতামূলক অবসর ও ওএসডি প্রথা বাতিল এবং ন্যায়পাল নিয়োগসহ প্রশাসনকে জনবান্ধব ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে ২০০-এরও বেশি সুপারিশ করা হয়। স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে এগুলো বাস্তবায়নের কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো অগ্রগতি চোখে পড়েনি।
কমিশনের রূপরেখা অনুযায়ী প্রশাসনের কাঠামো ও সেবা প্রদানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসার কথা থাকলেও তা দৃশ্যমান হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সাবেক আমলা ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীর মন্তব্য জানতে চাইলেও তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

