রিকশাচালকদের হাস্যরস ও গম্ভীরতায় ঢাবিতে জুলাই আন্দোলনের প্রদর্শনী
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উপাচার্য বাসভবনের সামনে বড় পর্দায় প্রদর্শিত হচ্ছিল গত বছরের জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন ফুটেজ। মঙ্গলবার রাতে সেখানে উপস্থিত অর্ধশতাধিক রিকশাচালক ও পথচারী যখন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওই বক্তব্য শুনলেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন ‘শেখ হাসিনা পালায় না’, তখন তারা হাসিতে ফেটে পড়েন। তবে এই হাসি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কিছুক্ষণ পর যখন স্ক্রিনে আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থীদের রক্তাক্ত মরদেহ ও হামলার ভয়াবহ দৃশ্য দেখানো হয়, তখন তাদের মুখের হাসি মুহূর্তেই গম্ভীরতায় পরিণত হয়।
সাবেক সরকারের পতনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের পতন ও গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি বুঝাতে শাহবাগ ও চারুকলা এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে এসব ডিসপ্লে বোর্ড। এতে জুলাই মাসের আন্দোলনের পাশাপাশি সরকারের দমন-পীড়ন, দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব দৃশ্য দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন।
রাতের অন্ধকারে ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকায় স্থাপিত এসব বড় পর্দায় ঐতিহাসিক সেই দিনগুলোর আবেগঘন মুহূর্তগুলো ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। ফাঁকা রাস্তায় বা মোড়ে বড় স্ক্রিনে এসব প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের সময় রিকশাচালক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে দাঁড়িয়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে তা দেখতে দেখা যায়। গত বছরের আগস্টে যে বিপ্লব ঘটেছিল, তার স্মৃতিচারণে আজও আবেগাপ্লুত সাধারণ মানুষ।

