গ্যাসের চাপে রাজধানীতে হাহাকার, রান্নায় বাড়ছে বিদ্যুতের খরচ
রাজধানীজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাস সংকটে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দিনের বেশিরভাগ সময় লো-প্রেসারের কারণে চুলায় আগুন জ্বালানোই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এক ঘণ্টার রান্না করতে গিয়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে অনেকেই বৈদ্যুতিক হিটার ও ইন্ডাকশন কুকারের দিকে ঝুঁকছেন, যা তাদের দৈনন্দিন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, আদাবর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, হাজারীবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, খিলগাঁও, বাসাবো, মালিবাগ, উত্তরা ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ভোর বা গভীর রাত ছাড়া অন্য সময় গ্যাসের সংযোগ প্রায় থাকেই না। অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, চুলা জ্বললেও একটি তরকারি সেদ্ধ করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
এই সংকট কাটিয়ে উঠতে অনেকে বৈদ্যুতিক হিটার, ইন্ডাকশন ওভেন বা রাইস কুকারের ওপর ভরসা করছেন। আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বাইরের হোটেল থেকে খাবার কিনে আনছেন। মোহাম্মদপুরের গৃহিণী রাজিয়া আক্তার জানান, সকালে বাচ্চাদের নাশতা তৈরি করতে না পেরে তাকে বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করতে হচ্ছে, যাতে বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাচ্ছে। মিরপুরের রুকাইয়ার অভিযোগ, দুপুর ও রাতে রান্না অসম্ভব হওয়ায় প্রতিদিন হোটেল থেকে খাবার আনতে হচ্ছে, যা তাদের মাসিক বাজেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
এই ভোগান্তি এখন শুধু ঘরে নয়, তা ছড়িয়ে পড়েছে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে অনেক ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন চালকরা, যা তাদের আয়ের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।

