সব সয়াবিন তেলে মাইক্রোপ্লাস্টিক, লিটারে গড়ে ৫৩ হাজার কণা

প্রাইম বার্তা অনলাইন
২৯ জুলাই ২০২৬ ১:৩১ এএম
সব সয়াবিন তেলে মাইক্রোপ্লাস্টিক, লিটারে গড়ে ৫৩ হাজার কণা

দেশের বাজারে পাওয়া সব ধরনের সয়াবিন তেলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন গবেষকরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) যৌথ গবেষণায় এই আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক পিয়ার-রিভিউড জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি লিটারে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা রয়েছে।

গবেষকরা রাজধানীর বিভিন্ন সুপারশপ ও খোলা বাজার থেকে সংগ্রহ করা ৬০টি নমুনার ওপর পরীক্ষা চালান। এর মধ্যে তিনটি ব্র্যান্ডেড এবং তিনটি নন-ব্র্যান্ডেড তেলের নমুনা ছিল। বিশ্লেষণে দেখা যায়, নন-ব্র্যান্ডেড তেলে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি, যেখানে গড়ে ৫৯ হাজার ৭৭৮টি কণা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ব্র্যান্ডেড তেলে ৪৮ হাজার ৬৭টি কণা শনাক্ত হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়, যা বাংলাদেশে সয়াবিন তেলে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে প্রথম কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা।

গবেষণায় আরও জানানো হয়, শনাক্ত হওয়া কণার প্রায় ৮৩ শতাংশই ফাইবার বা আঁশ জাতীয়। সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে ১০১ থেকে ৫০০ মাইক্রোমিটার আকারের স্বচ্ছ কণা। এফটিআইআর বিশ্লেষণে লো ও হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন, পলিপ্রোপিলিন, পিইটি, পলিইউরেথেন (PU) এবং নাইলনের উপস্থিতি মিলেছে। গবেষকদের দাবি, ভোজ্যতেলে এই প্রথম পলিইউরেথেন ও নাইলন শনাক্ত করা হলো। ড. শফি মুহাম্মদ তারেকের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাপত্রটি জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড এনালাইসিসে ২০২৬ সালের এপ্রিল সংখ্যায় প্রকাশ পেয়েছে।

এই গবেষণা খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দৈনন্দিন রান্নায় ব্যবহৃত তেলে এমন ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রতিবেদন সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তেলের গুণগত মান যাচাই ও নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...