মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার থেকে প্রশাসন ক্যাডার: ফাহিম শাকিলের সাফল্যের গল্প ও নতুনদের জন্য পরামর্শ
৪৫তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মো. ফাহিম শাকিলের সাফল্যের পেছনে রয়েছে নিয়মিত পঠন-পাঠন, পরিকল্পিত প্রস্তুতি এবং পরিবারের অবিচল সমর্থন। নওগাঁ জেলা শহরে জন্ম নেওয়া এই তরুণের শিক্ষাজীবন শুরু হয় নওগাঁ কেডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি, জেএসসি ও এসএসসিতে গোল্ডেন এ+ এবং ঢাকার রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে এইচএসসিতে গোল্ডেন এ+ অর্জন করেন তিনি। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন তিনি।
বিসিএস প্রস্তুতি প্রসঙ্গে ফাহিম বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না যে বিসিএসের জন্য আলাদাভাবে কিছু পড়তে হয়। স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে যা শিক্ষা লাভ করেছি, তার মূল্য বিসিএস পরীক্ষায় পাওয়া যায়। বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, বিজ্ঞান ও গণিতের মৌলিক ধারণা স্পষ্ট থাকা আবশ্যক।’
তার প্রস্তুতি পদ্ধতির অন্যতম অনুষঙ্গ ছিল নিয়মিত পত্রিকা পাঠ এবং বইয়ের প্রতি অনুরাগ। প্রতিদিন দুটি করে বাংলা ও ইংরেজি দৈনিক পড়া তার লেখার দক্ষতা এবং বাচনভঙ্গিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে বলে জানান তিনি। এছাড়া মূল পাঠ্যবইয়ের বাইরেও বিভিন্ন সাহিত্য গ্রন্থ পাঠের অভ্যাস ছিল তার।
সম্মিলিত মেধা তালিকায় ৫৬তম স্থান অধিকার করে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার আনন্দবোধ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফাহিম বলেন, ‘সেই মুহূর্তটি আজও স্বপ্নের মতো মনে হয়। মা, বাবা ও বোনের সাথে আনন্দাশ্রু বিসর্জনের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’
অ্যাডভোকেট মো. মোকছেদুর রহমান ও মিসেস সোহেলী মাগফুরা রহমানের সন্তান ফাহিমের অনুপ্রেরণার প্রধান উৎস ছিলেন তার পরিবার। বিশেষ করে মায়ের কাছ থেকে পাওয়া নির্দেশনা ও বাবার কর্মজীবনের আদর্শ তাকে এই পেশায় আসতে উৎসাহিত করেছে।
নতুন বিসিএস প্রার্থীদের জন্য ফাহিমের পরামর্শ, ‘প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হতে হলে নিয়মিত পড়াশোনা, সঠিক পরিকল্পনা এবং ধৈর্যের কোনো বিকল্প নেই। মৌলিক বিষয়গুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করুন এবং নিয়মিত সংবাদপত্র পড়ুন। মনে রাখবেন, সফলতা একদিনে আসে না, তা অর্জন করতে হয় দীর্ঘ পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে।’

