মহানবীর সতর্কতা: মুসলিমদের মাঝে জাহেলি যুগের ৪ প্রথা
মানব সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনাই ছিল ইসলামের মূল উদ্দেশ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর ২৩ বছরের নবুওয়াতি জীবনে বংশীয় অহংকার ও সামাজিক বৈষম্য দূর করে ভ্রাতৃত্ববোধের এক আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে তিনি তাঁর উম্মতকে স্পষ্ট সতর্ক করে গেছেন যে, সঠিক ঈমানি চেতনার অভাবে জাহেলি যুগের চারটি কুপ্রথা মুসলিম সমাজে ফিরে আসতে পারে। হযরত আবু মালিক আল-আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এই চারটি বদঅভ্যাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা থেকে সতর্ত থাকা ফরজ।
সহিহ মুসলিমে বর্ণিত এই চারটি প্রথা হলো—বংশের গৌরব করা, অন্যকে বংশ নিয়ে অপমান করা, নক্ষত্রের উপর ভিত্তি করে বৃষ্টির প্রার্থনা করা এবং মৃতের জন্য চরম আহাজারি করা। কোরআনের সুরা হুজরাতে বলা হয়েছে, মানুষের মর্যাদা তার বংশে নয়, বরং তাকওয়ায়। বিদায় হজের ভাষণেও রাসুল (সা.) আরব ও অনারবের মধ্যে কোনো প্রভেদ নেই, শুধুমাত্র তাকওয়ার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভরশীল—এমনটাই ঘোষণা করেছিলেন। হাদিসে কুদসিতেও আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, যে বলে বৃষ্টি আল্লাহর কৃপায় হয়েছে সে মুমিন, আর যে নক্ষত্রের দোহাই দেয় সে কাফের বা অকৃতজ্ঞ।
একজন খাঁটি মুমিনের মধ্যে অপরের বংশ নিয়ে খোটা দেওয়া বা মৃত ব্যক্তির জন্য কাপড় ছেঁড়া ও চিৎকার করা মানানসই নয়। সাহাবি আবু জার (রা.) একবার কাউকে তার মায়ের সম্পর্কে তুচ্ছজ্ঞান করলে রাসুল (সা.) তাকে জাহেলিয়াতের অবশেষ থাকার জন্য সতর্ক করেছিলেন। ইসলাম স্বাভাবিক কান্নাকে অনুমোদন দিলেও উচ্চস্বরে বিলাপ করাকে ‘নিয়াহা’ হিসেবে নিষিদ্ধ করেছে। হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি এমন করে কান্নাকাটি করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়। এমনকি বিলাপকারী যদি তওবা না করে, কিয়ামতের দিন তাকে আলকাতরার জামা ও চুলকানিযুক্ত বর্ম পরিয়ে হাজির করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

