প্রথমবার খতিব পদ পাচ্ছে মডেল মসজিদ, বাড়লো ইমাম-মুয়াজ্জিনের সম্মানি
দেশের মডেল মসজিদগুলোতে এবার থাকবেন খতিব। সরকার প্রথমবারের মতো এসব মসজিদে খতিব পদ সৃষ্টি করেছে, একই সঙ্গে পেশ ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদিমের মাসিক সম্মানিও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এসব পরিবর্তন নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় জারি করেছে ‘মডেল মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৬’। গত ২০ সেপ্টেম্বর নতুন নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি হয় এবং ২৪ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
নতুন নীতিমালায় মসজিদের ব্যবস্থাপনা কমিটির গঠন, জনবল নিয়োগ, কর্মীদের দায়িত্ব-কর্তব্য, আর্থিক হিসাব-নিকাশ, ছুটি, সঞ্চয় এবং চাকরি-পরবর্তী সুবিধাসহ নানা বিষয়ে সংশোধন আনা হয়েছে। ‘প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক (উপসচিব) মোহাম্মাদ ফেরদৌস-উজ-জামান জানান, আগের নীতিমালায় কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে কিছু অস্পষ্টতা থাকলেও নতুন নীতিমালায় সেগুলো আরও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। অভিযোগ বা সমস্যার ক্ষেত্রে আপিলের সুযোগ এবং কোন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা যাবে, তার স্তরবিন্যাসও এবার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
খতিব পদে নিয়োগ দেওয়া হবে চুক্তিভিত্তিক। প্রতিটি মসজিদের জন্য একজন করে খতিবের পদ রাখা হয়েছে। সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ধরা হয়েছে ৬৫ বছর। তবে খতিবের বেতন-ভাতার ব্যয় সরকার বহন করবে না; যেসব মডেল মসজিদের আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে, শুধু সেসব মসজিদের কমিটি নিজস্ব অর্থায়নে নীতিমালা মেনে খতিব নিয়োগ দিতে পারবে।
প্রয়োজনের ক্ষেত্রে কর্মীদের বদলির বিধানও এবার কিছুটা নমনীয় করা হয়েছে। পাশাপাশি মসজিদগুলো নিজস্ব আয় থেকে পরিচালন ব্যয় মেটিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার দিকে এগোবে—এ লক্ষ্যে নতুন নীতিমালায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি মসজিদ হওয়ায় পরিচালনায় স্থানীয় মানুষের আগ্রহ অনেক সময় কম থাকে, তাই তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রতিও জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানান উপ-প্রকল্প পরিচালক।
প্রশাসনিক স্পষ্টতা আনা, কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা—এই তিন লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মাধ্যমে দেশের ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

