অবৈধ সম্পদের দুই মামলায় সাবেক ডিবিপ্রধান হারুনের চার্জশিট অনুমোদন দুদকের
জ্ঞাত আয়ের বাইরে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে ঘিরে দায়ের করা পৃথক দুই মামলার অভিযোগপত্র চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এই চার্জশিট অনুমোদিত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিশনের সচিব সাইদুর রহমান খান। চার্জশিটে একটি মামলায় হারুনকে নম্বর এক আসামি করা হয়েছে; আর দ্বিতীয় মামলায় প্রধান আসামি তার ছোট ভাই চিকিৎসক ডা. এ বি এম শাহরিয়ার, যেখানে হারুনকে সহযোগী আসামি রাখা হয়েছে।
কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে, হারুন অর রশীদের নামে স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে রয়েছে ২১ কোটি ২৮ লাখ ৯ হাজার ৬০৫ টাকার সম্পদ। অথচ তার বৈধ আয়ের পরিমাণ মাত্র ৩ কোটি ৫১ লাখ ১৯ হাজার ৭৬৮ টাকা। সম্পদ অর্জনে বিভিন্ন খরচ বাদ দিলে বৈধ উৎস থেকে তার সামর্থ্য দাঁড়ায় ১ কোটি ২৯ লাখ ১৫ হাজার ৬ টাকা। ফলে তার বিরুদ্ধে ১৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৯ টাকার জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিবি প্রধানসহ পুলিশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে হারুন ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং বৈধ আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এই সম্পদ ভোগদখলে রেখেছেন। একই কাজের জন্য তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করেছেন দুদকের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন; তিনি শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করবেন।
অন্য মামলায় প্রধান আসামি ডা. এ বি এম শাহরিয়ার ও সহযোগী আসামি হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে মোট ১৮ কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার ১৮৫ টাকার জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। চার্জশিট আদালতে দাখিল ও গ্রহণের পর দুই মামলাতেই অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

