এক পাশে ঝমঝম বৃষ্টি, অন্য পাশে তীব্র রোদ—ঢাকায় আবহাওয়ার বিচিত্র খেলা
বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর একাংশে হঠাৎ নেমে আসে ঝুম বৃষ্টি। অথচ কয়েক ধাপ দূরেই চলছিল কড়া রোদ। হাইকোর্টের মাজার গেট ও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে আচমকা বৃষ্টিতে তোলপাড় হয়ে ওঠেন পথচারীরা। ভিজে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচতে এক মোটরসাইকেল আরোহী তড়িঘড়ি করে আশ্রয় নেন রাস্তার ধারের একটি গাছের নিচে।
গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ শুরু করেন ওই আরোহী। বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এই যে দেখুন, মৎস্য ভবন অভিমুখী রাস্তায় বৃষ্টি নামলেও বিপরীত দিকের রাস্তায় এক ফোঁটা বৃষ্টিও নেই! এ এক অদ্ভুত দৃশ্য।’
পাশে দাঁড়ানো আরেক পথচারী সঙ্গে সম্মতি জানিয়ে বলেন, ‘ঠিকই বলেছেন ভাই। আবহাওয়ার কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। এই রোদ, এই বৃষ্টি। এখানে রাস্তায় পানি জমলেও মিরপুর, বাড্ডা কিংবা গুলশান এলাকায় গেলে দেখবেন বৃষ্টি তো দূরের কথা, রাস্তাঘাট একদম শুকনো খটখটে।’ শুনতে কল্পকাহিনির মতো লাগলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাজধানীর নানা এলাকায় এমন ভিন্ন আবহাওয়ার বাস্তব প্রমাণ মিলছেই।
এই অদ্ভুত আবহাওয়ার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে; আর এর একটি অংশ প্রসারিত হয়ে পৌঁছেছে উত্তর বঙ্গোপসাগরে।
আবহাওয়াবিদদের ভাষ্যমতে, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু এখন কম সক্রিয়, তবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
মৌসুমি বায়ুর এই অসমান কার্যকারিতার কারণেই একই শহরের একাংশে বৃষ্টি, অন্যাংশে রোদ—এমন চিত্র আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রোদ-বৃষ্টির এই অনিশ্চিত খেলার মাঝে পথে বেরোলে ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেকে।

