এজলাস ত্যাগের ঘটনায় সংসদে আইনমন্ত্রীর দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির এজলাস ত্যাগের ঘটনা নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তার ভাষ্য, এই ঘটনাকে রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার পৃথকীকরণের প্রশ্ন হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সংশ্লিষ্ট সবার সংযত আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এজলাসে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছিলেন, আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে। তার এই মন্তব্যকে ঘিরেই প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেন। এরপর থেকে আইনজীবী সমাজে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সংসদে পাবনা-১ আসনের সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি তুলে ধরে একে দুঃখজনক বলে হতাশা প্রকাশ করেন। জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যের প্রশ্নটি অবশ্যই আলোচনার দাবি রাখে। তবে এই ঘটনাকে ক্ষমতার পৃথকীকরণ বা সেপারেশন অব পাওয়ারের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। তিনি ব্যাখ্যা করেন, যে আইনজীবীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তিনি বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। এই সংগঠন রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের কোনোটিরই অংশ নয়; এটি সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত আইনজীবীদের একটি সংগঠন মাত্র। ফলে তার আচরণকে কোনো রাষ্ট্রীয় অঙ্গের আচরণ হিসেবে ধরা ঠিক হবে না।
বার ও বেঞ্চের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, আদালতের ভেতরে আইনজীবীদের মধ্যে কিংবা আইনজীবী ও বেঞ্চের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হলেও অনেক সময় আদালতের বাইরে তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকে। অতীতের একটি আদালতকেন্দ্রিক ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করেন। শেষে তিনি প্রত্যাশা করেন, ভবিষ্যতে যেন কেউ এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি না করেন।

