বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটি টাকার অনিয়ম, তদন্তে সংসদীয় কমিটি
পরীক্ষা-নিরীক্ষার লভ্যাংশের বিপরীতে না নিয়ে মোট আয়ের ওপর শতকরা হিসাবে অর্থ তুলে নেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই অনিয়ম এবং ঝুলে থাকা অডিট আপত্তিগুলো অনুসন্ধানের জন্য সাব-কমিটি গঠন করেছে জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। গঠিত এই দলকে সরেজমিনে অনিয়ম খতিয়ে দেখে এক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন কমিটির সভাপতি ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকারের বিধান অনুযায়ী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা লভ্যাংশের ৩০ শতাংশ পাওয়ার কথা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটিতে সেটি না মেনে মোট আয়ের ৩০ শতাংশ হিসেবে অর্থ বণ্টন করা হয়েছে। এতে সরকারের কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা বেআইনিভাবে বেরিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, ১০০ টাকা আয়ের বিপরীতে ৯০ টাকা ব্যয় হলে লভ্যাংশ দাঁড়ায় মাত্র ১০ টাকা। নিয়মমতে সেই ১০ টাকার ওপর ৩০ শতাংশ হিসাব করার কথা হলেও পুরো ১০০ টাকার ওপর ভাগ বাটোয়ারা করা হয়েছে, যা সরাসরি আইন লঙ্ঘন। বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়টি সংশ্লিষ্ট আটটি অডিট আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়। কিছু আপত্তির নিষ্পত্তি হলেও অবশিষ্টগুলো তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। অবৈধভাবে তোলা অর্থ যেকোনো মূল্যে আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতি মাসে অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে।
ডা. তাহের আরও জানান, সাংবিধানিকভাবে এক নম্বর কমিটি হিসেবে স্বীকৃত পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির মূল দায়িত্ব সরকারের বর্তমান ও অতীত ব্যয় পর্যালোচনা এবং অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করা। দীর্ঘদিনের পুরোনো অডিটের চেয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আপত্তিগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যাতে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ওপর জবাবদিহি আদায় করা যায়। বড় ধরনের দুর্নীতির ঘটনাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করে বর্তমান, অন্তর্বর্তীসহ বিভিন্ন সরকারের আমলের আপত্তিগুলো পর্যায়ক্রমে সামনে আনা হবে বলেও তিনি জানান।

