উত্তরার ট্র্যাজেডি: শোকের এক বছর পূর্তিতে কাঁদে এরিকসনের পরিবার
প্রায় এক বছর আগে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলে সেই ঘটনায় প্রাণ হারায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র উক্যছাইং মারমা এরিকসন। আগামী ২১ জুলাই সেই চিরবিদায়ের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে। তবে সন্তানকে হারিয়ে স্মৃতির সাগরে ডুবে থাকা বাবা উসাইমং মারমা ও তার পরিবারের কাছে সময়টা যেন সেদিনই থমকে দাঁড়িয়েছে। ছেলের রেখে যাওয়া সাইকেল, গিটার আর অন্যরকম এক নীরবতা ঘিরে ধরেছে তাদের জীবন।
সোমবার (২০ জুলাই) নিকট এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একমাত্র সন্তানকে হারানোর অসহ্য বেদনার কথা বর্ণনা করেছেন এরিকসনের বাবা। তিনি জানান, ছেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তার স্ত্রী সপ্তাহে চার-পাঁচদিনই কান্নায় ভেঙে পড়েন। ঘরের এক কোণে পড়ে থাকা এরিকসনের প্রিয় সাইকেল, আলমারিতে ভাঁজ করা জামা, স্কুলের পুরস্কার আর গ্যালারিতে থাকা ছবিগুলো দেখলেই তাদের চোখের সামনে ভাসে সেই হাসিমাখা কিশোরের প্রতিচ্ছবি। পাহাড় আর নদীর টানে এই স্বপ্নবাজ কিশোর আজ রাঙ্গামাটির রাজস্থলীর কেন্দ্রীয় শ্মশানে চিরনিদ্রায় শায়িত।
ওই দুর্ঘটনার দিনটির কথা স্মরণ করে উসাইমং মারমা বলেন, গভীর রাতে হঠাৎ স্কুলের একজন শিক্ষিকার ফোন আসে। রাত দেড়টার দিকে ফোনে জানানো হয় তার ছেলে আহত হয়েছে। খবর পেয়ে ছুটে আসেন ঢাকায়। চিকিৎসকরা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত আনুমানিক আড়াইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় এরিকসন। এই এক বছরে বাবা-মা হয়তো নিজেদের সামলে নিতে চেষ্টা করেছেন, কিন্তু মনের কোণে লুকিয়ে থাকা শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।

