একই ক্যাম্পাসে বাবা-মেয়ে: ঢাকা মেডিকেলে দুই প্রজন্মের অনন্য আবেগ
দেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) যখন ৮০ বছরে পদার্পণ করছে, তখন এই ক্যাম্পাসে ঘটেছে এক অনন্য ঘটনা। একই প্রতিষ্ঠানের ৩৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন ডা. আবু সালেহ মো. অলিউল্লাহ। বছরের পর বছর পর একই সুতোয় গাঁথা হলো আরেকটি স্বপ্ন। তারই সন্তান সিগমা ওয়ালিন এখন এই কলেজের ৭১তম ব্যাচের ছাত্রী। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আমেজে বাবা ও মেয়ের এই যৌথ আবির্ভাব নতুন করে স্মৃতি ও আবেগের জোয়ার তুলেছে।
গ্রামের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা ডা. অলিউল্লাহ তার ছাত্রজীবনের কথা স্মরণ করে জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি তখন কঠিন আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে তাকে যুদ্ধ করতে হয়েছিল। তিনি বলেন, বাবাকে হারিয়ে দারিদ্রের সাথে লড়াই করে ঢাকা মেডিকেলে আসা তার জীবনের বড় অর্জন। এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু একটি কলেজ নয়, বরং মানুষের ভাগ্য বদলে দেওয়ার এক মহৎ মাধ্যম। নিজের মেয়ে একই ইশকুলে পড়ার সুযোগ পাওয়ায় তিনি আল্লাহর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, বাবার স্বপ্ন যেন বাস্তব রূপ নিয়েছে মেয়ের মাঝে। সিগমা ওয়ালিন বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হলো সব মেডিকেলের মাদার ইনস্টিটিউট। ৮০ বছর পূর্তির দিনে বাবার হাত ধরে ক্যাম্পাসে ঘোরার অভিজ্ঞতাকে তিনি অবিস্মরণীয় বলে উল্লেখ করেছেন। একই ক্যাম্পাসে হাঁটতে হাঁটতে বাবা তার পুরনো পরিচিতদের খুঁজে পাচ্ছিলেন, আর সিগমা তার বন্ধুদের দেখছিলেন। দুই প্রজন্মের এই একাকার হয়ে যাওয়া মুহূর্তটি তাদের জীবনে এক অনন্য অনুভূতি হয়ে থাকবে।

