চট্টগ্রাম বন্যা: কৃষি ও মৎস্য খাতে শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে সৃষ্ট বন্যায় জেলার কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ৯০ কোটি টাকার মাছ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে, যার ফলে হাজার হাজার কৃষক ও মৎস্যচাষি সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। প্রায় ২০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে থাকার পাশাপাশি জেলার ১০ হাজারের বেশি পুকুর-ঘের এবং ১৪ হাজার হেক্টরের অধিক কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলায়। বাঁশখালীতে প্রায় আড়াই হাজার পুকুর এবং ৩১০টি চিংড়ি ঘের ডুবে যাওয়ায় প্রায় ৪১ কোটি ৫০ লাখ টাকার মাছ হারিয়েছেন স্থানীয়রা। সাতকানিয়ায় ৪৬৬ হেক্টর পুকুর ও দিঘির প্রায় ১০ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এছাড়া লোহাগাড়ায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা, কর্ণফুলীতে ৬ কোটি টাকা, চন্দনাইশে প্রায় ৬ কোটি টাকা, বোয়ালখালীতে সাড়ে ৪ কোটি টাকা, পটিয়ায় প্রায় ৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, ফটিকছড়িতে প্রায় ৩ কোটি টাকা এবং আনোয়ারায় প্রায় ১ হাজার ১০০টি পুকুর ও ১০টি চিংড়ি ঘেরে দেড় কোটি টাকার মাছের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম জানান, চট্টগ্রামে এবার স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বন্যা হয়েছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপজেলাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে এখনো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। তিনি আরও বলেন, জেলার ১৫টি উপজেলার প্রায় সব এলাকাতেই কমবেশি পুকুর, দিঘি ও চিংড়ি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব নিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যচাষিদের পুনর্বাসনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

