পেনাল্টি শুটআউটে টেকনিক নয়, মনোবলই আসল: আনচেলত্তি
ব্রাজিল ফুটবল দলের সাম্প্রতিক টাইব্রেকারের অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর হয়নি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকায় উরুগুয়ের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল সেলেসাওদের। এই দুই হারের জন্য তখনকার কোচ তিতে ও দরিভাল জুনিয়র ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। তাই এবার বিশ্বকাপের আসরে জাপানের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়েই ম্যাচ জিততে মরিয়া ব্রাজিল। তবে পেনাল্টি শুটআউটের জন্যও নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
পেনাল্টি শুটআউটের মতো স্নায়ুচাপের মুহূর্তে খেলোয়াড়দের টেকনিক্যাল দক্ষতার চেয়ে মনস্তাত্ত্বিক দৃঢ়তাই আসল বলে মনে করেন আনচেলত্তি। গত বছর মার্চে চ্যাম্পিয়নস লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে এক ম্যাচে তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিককে পেনাল্টি নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে ডিফেন্ডার রুডিগারকে পাঠিয়েছিলেন তিনি। এ নিয়ে আনচেলত্তি বলেছিলেন, ওই সময় রুডিগার এন্দ্রিকের চেয়ে বেশি শান্ত ও সংযত ছিলেন এবং চাপের মুখে তিনিই বেশি প্রস্তুত ছিলেন।
যেকোনো বড় ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের পেনাল্টি অনুশীলন করানো এবং কার সফলতার হার কেমন, তা পর্যবেক্ষণ করা আনচেলত্তির পুরোনো অভ্যাস। চলতি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে তেরেসোপোলিসের গ্রাঞ্জা কোমারিতে অনুশীলনের শুরু থেকেই এ রুটিন মেনে কাজ করছে সেলেসাওরা। তবে পেনাল্টি শুটআউটে কে শট নিতে যাবেন, সেই চূড়ান্ত তালিকাটি একদম শেষ মুহূর্তে খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে তৈরি করা হয়। এই অভিজ্ঞ কোচের মতে—পেনাল্টি শুটআউট অনেকটা ‘লটারি বা টসের মতো ভাগ্য পরীক্ষা’।
নিজের দর্শন সম্পর্কে আনচেলত্তি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘পেনাল্টি টেকার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে আমি টেকনিকের চেয়ে মানসিক শক্তিকে বেশি প্রাধান্য দিই। আপনি যদি মানসিকভাবে প্রস্তুত না থাকেন, তবে পেনাল্টি নেওয়ার মতো টেকনিক্যাল কাজটি আপনার পক্ষে নিখুঁতভাবে করা সম্ভব নয়।’ বর্তমান ব্রাজিল দলে নেইমার, ইগর থিয়াগো এবং চোটে ভুগতে থাকা রাফিনিয়ারা প্রধান পেনাল্টি টেকার হিসেবে বিবেচিত। জাপানের বিপক্ষে নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই ম্যাচ জিততে চায় সেলেসাওরা।

