শ্রম আদালতের মামলাজট নিরসনে দ্রুত রোডম্যাপ চান শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক
শ্রম আদালতগুলোতে জমে থাকা মামলার বিশাল স্তূপকে দেশের সামগ্রিক বিচারকার্য এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে গুরুতর বাধা হিসেবে দেখছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তার মতে, সংবিধানে নিশ্চিতকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য এই জট দূর করা এখন অত্যন্ত জরুরি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সহায়তায় আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় ভিডিও কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রম সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার এবং গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এস এম আরশাদুল আলম। শ্রম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রহিম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় শ্রম আদালতের বিচারক, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
শ্রমিকদের অর্থনীতির চালিকাশক্তি বলে অভিহিত করে মন্ত্রী বলেন, আদালতের জট কমাতে শ্রম আদালতের সংখ্যা বাড়ানো ও শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি সম্পূর্ণ আইটি-নির্ভর ই-কোর্ট পদ্ধতি চালু করতে হবে। একই সঙ্গে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়মিত আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। পরামর্শ সভায় উঠে আসা সুপারিশ বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এসময় শ্রম সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার বলেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, নিয়োগকর্তাদের স্বার্থের সুরক্ষা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ শিল্প সম্পর্ক গড়ে তুলতে কার্যকর শ্রম বিচার ব্যবস্থা অপরিহার্য। মামলা দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকরা পাওনা থেকে বঞ্চিত হন, আবার নিয়োগকর্তারাও দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তায় ভোগেন; তাই জট কমানো কেবল প্রশাসনিক অগ্রাধিকার নয়, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের পূর্বশর্ত। সভায় বিচারক, আইনজীবী, নীতিনির্ধারক ও মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিরা শ্রম বিচারব্যবস্থার সংস্কার এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

