শেরেবাংলা নগরে উঠছে নতুন সচিবালয়, মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব অনুমোদিত

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১৮ অক্টোবর ২০২৬ ৭:৫৮ পিএম
শেরেবাংলা নগরে উঠছে নতুন সচিবালয়, মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব অনুমোদিত

রাজধানীর আবদুল গনি রোড ছেড়ে সচিবালয়ের ঠিকানা বদলে যাচ্ছে শেরেবাংলা নগরে। স্থানান্তর পরিকল্পনার প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে মন্ত্রিসভায়। রোববার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয়ে অফিস চালুর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েই এগোচ্ছে সরকার।

ঢাকার পুরোনো মাস্টারপ্ল্যানে শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে এ ধরনের স্থাপনার জন্য জায়গা বরাদ্দ ছিল জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জমির ওপর ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের ভবন ও সহযোগী স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে থাকবে ১২ তলাবিশিষ্ট ১৪টি ভবন, তিনটি বেজমেন্ট এবং ৩ হাজার ৮০০ গাড়ির পার্কিং ব্যবস্থা। এ ছাড়া একটি মসজিদ, দুটি মাল্টিপারপাস হল, ক্যাফেটেরিয়া ও ডাকঘর গড়ে তোলার কথাও ভাবা হয়েছে। নকশায় বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের মূল ভাবনার ধারাবাহিকতা রাখা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এলাকার যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ভূগর্ভস্থ সড়ক ও আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনায়ও রয়েছে।

মূল নকশার ধারণা অনুমোদন পেলেও বৈদ্যুতিক, প্লাম্বিং, স্থাপত্য ও কাঠামোগত প্রকৌশলসহ নানা পর্যায়ের কাজ এখনো বাকি জানিয়ে নাসিমুল গনি বলেন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পরবর্তী ধাপ এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী জনপ্রত্যাশার সঙ্গে সিদ্ধান্তটির সংগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে তিনি ব্যাখ্যা করেন, সচিবালয়ের ১৬টি মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই মূল ভবনের বাইরে রয়েছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নিজেও সেই অংশে অফিস করছেন। পুরো সরকার যাতে সমন্বিতভাবে দ্রুত কাজ করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের অর্থায়ন সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারই করবে, তবে মোট ব্যয়ের পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের বিবেচনায় এই বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি কাজের গতি বাড়াতে কার্যকর অবকাঠামো অপরিহার্য—ভোতা ছুরি দিয়ে যেমন কাজ হয় না, তেমনি দুর্বল অবকাঠামোতে দক্ষতাও আসে না বলে উদাহরণ দেন তিনি। আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘২০২৯ সালে ইনশাল্লাহ সেখানে অফিস করা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। কাজ শুরু হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ শিগগির।’

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...