বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস: ১২০ কোটি তরুণের বিপরীতে চাকরি মাত্র ৪০ কোটির

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১৯ অক্টোবর ২০২৬ ১:৪৮ এএম
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস: ১২০ কোটি তরুণের বিপরীতে চাকরি মাত্র ৪০ কোটির

আগামী এক দশক থেকে দেড় দশকের মধ্যে বৈশ্বিক কর্মবাজারে যুক্ত হবেন ১২০ কোটি যুবক-যুবতী, অথচ সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে মাত্র ৪০ কোটির। এমন উদ্বেগজনক পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, কর্মহীন থেকে যেতে পারেন প্রায় ৮০ কোটি তরুণ। তবু এই প্রজন্মই চলতি শতাব্দীর নেতৃত্ব দেবে বলে তাঁর আস্থা।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে এ বছর আয়োজিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ বার্ষিক সভা, যা রোববার শেষ হয়েছে। সমাপনী বক্তব্যে অজয় বাঙ্গা বলেন, আজকের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কেমন হবে। তিনি জানান, বিশ্বব্যাংক মূলত দুটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করছে—সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ কাজে লাগানো এবং বিভিন্ন দেশে ব্যাপক পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। উন্নয়নের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সরকারি অর্থায়ন, বেসরকারি বিনিয়োগ, দাতব্য উদ্যোগ ও প্রযুক্তির সমন্বয়ের ওপর, যা প্রতিটি দেশের নির্দিষ্ট চাহিদা অনুযায়ী সাজাতে হবে।

তাঁর ভাষায়, দেশগুলোর অগ্রগতির সঙ্গে সহায়তার ধরনও বদলাতে হবে। যেখানে প্রয়োজন ও ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, সেখানে নমনীয় শর্তযুক্ত বা কনসেশনাল অর্থায়ন অপরিহার্য থাকবে; আর দেশগুলো শক্তিশালী হলে বেসরকারি বিনিয়োগ ও বাজারে প্রবেশাধিকারই হবে মুখ্য। তিনি জানান, ৩৫টি দেশ ইতিমধ্যে আইডিএ থেকে আইবিআরডি পর্যায়ে উত্তরণ করেছে এবং ২৩টি দেশ নিজেরাই আইডিএতে অনুদানদাতা হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের কথাও তুলে ধরেন বাঙ্গা। তাঁর বর্ণনায়, প্রকল্প প্রস্তুতির সময়কাল ১৯ মাস থেকে কমিয়ে ৯ মাসে আনা হয়েছে এবং ১৫৩টি স্কোরকার্ড পরিমাপকের বদলে নেওয়া হয়েছে প্রভাবকেন্দ্রিক ২২টি পরিমাপক। ফলাফলভিত্তিক অর্থায়ন এখন মোট অর্থায়নের অর্ধেক, যা আগে ছিল এক-তৃতীয়াংশ। ব্যালান্স শিট পুনর্গঠনের ফলে এক দশকে আইবিআরডির ঋণদান সক্ষমতা ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বেড়েছে। এ ছাড়া ডিজিটাল সহ-অর্থায়ন প্ল্যাটফর্মে দুই বছরে প্রকল্প সংখ্যা তিন গুণ হয়ে প্রায় ২৫০টিতে পৌঁছেছে, যার জন্য প্রয়োজন ১৩৮ বিলিয়ন ডলার। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ইন্টার-আমেরিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও ইউরোপীয় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজের পুনরাবৃত্তি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের এই বিশাল ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ই হবে সামনের দিনগুলোর মূল কৌশল, এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বিশ্বব্যাংক প্রধান।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...