‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’: বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে তিন মেয়াদের রোডম্যাপ সংসদে
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চলমান সংকট নিরসনে সরকারের হাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা রয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। প্রধানমন্ত্রীর ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বক্তব্যের সঙ্গে গলা মিলিয়ে তিনি জানান, সংকট মোকাবিলায় পুরো সরকারই প্রস্তুত, তাই দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা যায় ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত, শিল্পকারখানা বন্ধ ও বেকারত্ব এবং অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উত্থাপিত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে তিনি এ কথা বলেন। ওই সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। আগের সরকারের ভুল নীতির কারণেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বর্তমান অস্বস্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে মেজর জিয়াউর রহমানের ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা ও তার সঙ্গীদের প্রতিধ্বনির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ঠিক সেভাবেই প্রধানমন্ত্রীর ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এর সঙ্গে সবাই একাকার হয়ে বলতে পারে ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’।
তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে মেয়াদোত্তীর্ণ পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এ সপ্তাহ থেকেই কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়াই ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জরুরি চাহিদা মেটাতে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক (এইচএফও) কেন্দ্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, যার জন্য ইতোমধ্যে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বন্ধ থাকা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট চলতি সপ্তাহেই সচল হবে বলে প্রত্যাশা করেছেন তিনি।
বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে চুক্তি থেকে অপসারণ প্রসঙ্গে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, চুক্তিগুলো রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত, তাই সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসা এত সহজ নয়; তবে বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই মেয়াদ শেষ হওয়া পাঁচটি কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে সেসব কেন্দ্র থেকে ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়াই বিদ্যুৎ পাওয়া শুরু হবে, যা সংকট কাটিয়ে ওঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।

