দেশে গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতার নিচে, প্রতিদিন ঘাটতি ১৫১৯ মিলিয়ন ঘনফুট

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮:০৭ পিএম
দেশে গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতার নিচে, প্রতিদিন ঘাটতি ১৫১৯ মিলিয়ন ঘনফুট

দেশের গ্যাস উৎপাদন ব্যাপকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর পাশাপাশি আমদানি করা এলএনজিসহ মোট উৎপাদন ও সরবরাহ সক্ষমতা ৩ হাজার ৮৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) হলেও বাস্তবে প্রতিদিন সংগ্রহ হচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৩৩৪ দশমিক ৭ এমএমসিএফডি। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ১৫১৯ এমএমসিএফডি গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) দৈনিক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। ৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের উৎপাদন হিসাবের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। পেট্রোবাংলার অধীনে তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান—বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল), সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল) ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স)—মোট ৭৬টি উৎপাদনশীল কূপ রয়েছে। এই কূপগুলোর মিলিত সক্ষমতা ১ হাজার ১৩৯ এমএমসিএফডি হলেও বাস্তব উৎপাদন কেবল ৭৩২ দশমিক ৪ এমএমসিএফডি।

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক হিসাব বলছে, বিজিএফসিএলের ৪৪টি কূপের সক্ষমতা ৮৫১ এমএমসিএফডি হলেও সেখান থেকে উৎপাদন হচ্ছে ৪৮৪ দশমিক ১ এমএমসিএফডি। প্রতিষ্ঠানটির বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র তিতাস থেকে প্রতিদিন ৩৩১ দশমিক ৫ এমএমসিএফডি গ্যাস তোলা হচ্ছে। এসজিএফএলের ১৭টি কূপের সক্ষমতা ১৪৩ এমএমসিএফডির বিপরীতে উৎপাদন ১৩৮ দশমিক ৮ এমএমসিএফডি, আর বাপেক্সের ১৫টি কূপের সক্ষমতা ১৪৫ এমএমসিএফডির বিপরীতে উৎপাদন ১০৯ দশমিক ৬ এমএমসিএফডি।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোর (আইওসি) ৪৩টি কূপের সম্মিলিত সক্ষমতা ১ হাজার ৬১৫ এমএমসিএফডি, থেকে বর্তমানে দৈনিক উত্তোলন হচ্ছে ৯০০ দশমিক ২ এমএমসিএফডি গ্যাস। উৎপাদনে এই বড় ঘাটতি শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহে চাপ তৈরি করেছে, যা কাটিয়ে ওঠার জন্য কার্যকর পদক্ষেপের দাবি তুলছে সংশ্লিষ্ট মহল।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...