করদাতাদের ভীতি দূর করতে এনবিআরের নীতি ও বাস্তবায়ন আলাদা হচ্ছে
দেশের মানুষ কর প্রদানে এগিয়ে আসেন না, এর মূল কারণ ভীতি—এ স্বীকার করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই ভীতি ও অডিটজনিত হয়রানি দূর করার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম আলাদা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ওই সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। মন্ত্রী বলেন, নানা কারণে করের আওতায় আসতে মানুষ দ্বিধায় ভোগেন। শুধু অডিটের ভয় নয়, এর পেছনে আরও একাধিক প্রতিবন্ধকতা কাজ করে, যা কাটিয়ে কর ব্যবস্থাকে সহজ করা জরুরি।
এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, বোর্ডটি বিভাজন বা বাইফারকেশনের পথে এগোচ্ছে। কর নীতি নির্ধারণে যারা কাজ করবেন এবং তা বাস্তবায়নে যারা নিয়োজিত থাকবেন, তাদের দায়িত্ব পৃথক করা হবে। তাঁর ভাষায়, আগে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন একই জায়গায় থাকায় বড় ধরনের দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর সুযোগ ছিল; দুটি আলাদা হলে সেই সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
কর-জিডিপি অনুপাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এই অনুপাত অত্যন্ত কম এবং অতীতে ধারাবাহিক উদ্যোগের অভাবে দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি আশা করেন, কর ব্যবস্থা যত সহজ হবে, তত বেশি মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর দিতে এগিয়ে আসবেন। সরকার সেদিকেই মনোযোগী বলেও তিনি জানান।

