খুলনায় সিআইডির অভিযান: অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের ৪ জন গ্রেফতার
দেশে ও বিদেশে অনলাইন বেটিং পরিচালনা করে অবৈধ অর্থ লেনদেন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত বুধবার রাতে খুলনার খানজাহান আলী ও খালিশপুর থানা এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন মো. রাকিবুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম আরজু, শেখ সাকির আহম্মেদ ও মিয়ানুল ইসলাম অয়ন। সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস শাখার পরিচালিত এই অভিযানে চক্রটির হদিশ মেলে সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার মনিটরিং সেলের নিয়মিত অনলাইন নজরদারির সূত্র ধরে।
সিআইডির এই কর্মকর্তা জানান, জুয়ার ওয়েবসাইটে যুক্ত হতে গেলে ব্যবহারকারীদের প্রথমে টপ-আপ বা ডিপোজিট করতে হতো। সে জন্য মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ব্যাংক হিসাব কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হতো। অর্থ জমা হওয়ার পর ব্যবহারকারীর বেটিং অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ ই-মানি বা বেট মানি যোগ করা হতো, যা পরবর্তীতে জুয়ায় ব্যবহৃত হতো।
অবৈধ এসব লেনদেনে ব্যবহৃত এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিয়মিত পরিবর্তন করা হতো বলেও জানান তিনি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এজেন্টদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা নম্বর ও হিসাব টেলিগ্রামসহ নানা যোগাযোগমাধ্যমে বেটিং সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে পাঠানো হতো। সেখানে প্রদর্শনের পর ব্যবহারকারীরা ওই হিসাবে টাকা পাঠাতেন। এজেন্টরা নির্দিষ্ট কমিশন আত্মসাৎ করে বাকি অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করতেন। পরে বাইন্যান্সের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ওই অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হতো বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রাথমিক তদন্ত শেষে রাজধানীর পল্টন থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করে সিআইডি। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে চক্রটির অন্যান্য সদস্য ও অর্থ পাচারের সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক উন্মোচনে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

