জামিনের নামে প্রতারণা: কারারক্ষী-আইনজীবীর ছদ্মবেশে চক্রের দুই সদস্য আটক
কাশিমপুর কারাগারের কারারক্ষী আর মানবাধিকার সংস্থার আইনজীবীর অভিনয় করে আসামির স্বজনদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎকারী সংঘবদ্ধ প্রতারক দলের দুই কুশীলবকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গোয়েন্দা বিভাগ জানায়, চক্রের সদস্যরা আগে সরকারি ওয়েবসাইট ঘেঁটে বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মোবাইল নম্বর বের করত। এরপর তাদের ফোন করে ওই এলাকার মামলাস্থ আসামিদের তথ্য সংগ্রহ করত। পরে আসামির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে একজনকে পরিচয় দিত ‘কারারক্ষী সাইফুল, কারাগার প্রধান ফটক, কাশিমপুর কারাগার’ নামে। জানানো হতো, নির্ধারিত আইনজীবীর বদলে মানবাধিকার সংস্থার আইনজীবী ‘সিরাজ’-এর মাধ্যমে আসামির জামিন হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ‘আইনজীবী’ পরিচয়ে কথা বলার জন্য চক্রের আরেক সদস্যের নম্বর দেওয়া হতো। ওই নম্বরে ফোন করলে প্রতারক কোমল গলায় নিজেকে আইনজীবী সাব্যস্ত করে জানাত, জামিন হয়ে গেছে, তবে আদালতের বাকি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হবে এবং হাতে সময় খুবই কম। এরপর ভুক্তভোগীদের কাছাকাছি কোনো দোকানের বিকাশ পার্সোনাল নম্বরে টাকা পাঠানোর নির্দেশ দিত। টাকা পাঠানো মাত্রই তা তুলে নিয়ে নম্বরটি বন্ধ করে দিত এবং মুহূর্তের মধ্যে ওই এলাকা ছেড়ে সরে যেত।
ডিবির তথ্যমতে, গত ১ জুলাই হাতিরঝিল থানায় নথিভুক্ত একটি বিকাশ/নগদ প্রতারণার মামলার তদন্ত চলাকালে এ অভিনব কৌশলের রেশ ধরা পড়ে। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তির বিশ্লেষণের মাধ্যমে চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত দুজনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে একাধিক প্রতারণার মামলা বিদ্যমান জানিয়ে ডিবি জানায়, তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে।

