৫৫ বছরে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ঘাটতি, ১৫ দিনে স্বস্তির আশ্বাস

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৫০ পিএম
৫৫ বছরে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ঘাটতি, ১৫ দিনে স্বস্তির আশ্বাস

জাতীয় সংসদে চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের জন্য গত দেড় দশকের ভুল নীতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের আকস্মিক অনিশ্চয়তাকে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানান, গত ৯ আগস্ট দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ছুঁয়েছিল ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট — যা গত ৫৫ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। প্রতিমন্ত্রীর ভাষায়, কথার জড়াজড়ির আড়ালে বাস্তবতা ঢাকার কোনো পথ নেই।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। জনজীবনে সৃষ্ট ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দেন, কারিগরি ত্রুটি দূর করা এবং সরকারের নতুন উদ্যোগের ফলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে লক্ষণীয় স্বস্তি ফিরবে।

সংকটের নেপথ্যে গ্যাসের চরম স্বল্পতার ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াট; পুরো সক্ষমতা কাজে লাগাতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু দেশীয় উত্তোলন ও এলএনজি আমদানি মিলিয়ে এখন সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। পুরো গ্যাস বিদ্যুৎ উৎপাদনে দিলে শিল্পকারখানা ও আবাসিক সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে বলে তিনি মত দেন, অর্থনীতি সচল রাখতে শিল্প, বিদ্যুৎ ও গৃহস্থালি — এই তিন খাতের মধ্যে বাধ্য হয়ে ভারসাম্য বজায় রাখা হচ্ছে।

কারিগরি বিপর্যয় ও আমদানি ঘাটতির বিষয়টিও স্বীকার করে প্রতিমন্ত্রী অবগত করেন, পায়রা ও মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া আদানির সঙ্গে পুরনো চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও এখন দিনে মিলছে ৯০০ এবং রাতে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট। সরকারের নতুন পদক্ষেপ এবং বন্ধ ইউনিট সচল হলে আগামী দিনে সরবরাহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...