৫৫ বছরে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ঘাটতি, দায় দেড় যুগের ভুল নীতির: প্রতিমন্ত্রী

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯:২৭ পিএম
৫৫ বছরে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ঘাটতি, দায় দেড় যুগের ভুল নীতির: প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে স্বীকার করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত — দেশে চলমান ভয়াবহ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের অন্যতম কারণ গত দেড় যুগের ত্রুটিপূর্ণ নীতি এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি মূল্যের হঠাৎ অস্থিরতা। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রীর মতে, চলতি বছরের ৯ আগস্ট দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি ছুঁয়েছিল ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট, যা গত ৫৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

গ্যাস সরবরাহের চিত্র ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াট; পুরো সক্ষমতা কাজে লাগাতে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। তবে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানিকৃত এলএনজি একসঙ্গে ধরলে বর্তমানে দৈনিক মাত্র ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, যা শিল্প, বিদ্যুৎ ও আবাসিক এই তিন খাতে ভাগ করে দিতে হচ্ছে। পুরো গ্যাস বিদ্যুৎকেন্দ্রে দিলে শিল্পকারখানা ও আবাসিক সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, সার্বিক অর্থনীতি সচল রাখতে এই ভারসাম্য বজায় রাখা ছাড়া উপায় নেই।

কারিগরি বিপর্যয়ের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট বর্তমানে ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া ভারতের আদানির সঙ্গে করা পূর্ববর্তী চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দিনে মাত্র ৯০০ এবং রাতে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট আমদানি হচ্ছে।

জনগণের অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে অমিত জোর দিয়ে বলেন, কোনোভাবেই সত্য গোপন করার সুযোগ নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কারিগরি সমস্যার সমাধান এবং সরকারের গৃহীত নতুন পদক্ষেপের ফলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে লক্ষণীয় উন্নতি দেখা যাবে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...